মহাবিশ্বের প্রসারণ মাপলেন আইইউবির ড. আশরাফসহ ৪০ বিজ্ঞানী

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

মহাবিশ্ব কত দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে, সেই হারের (হাবল কনস্ট্যান্ট) এ যাবৎকালের সবচেয়ে নির্ভুল পরিমাপ বের করেছেন ৪০ জন বিজ্ঞানীর একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল। 

সম্প্রতি ‘অ্যাস্ট্রনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রফিজিক্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, মহাবিশ্বের প্রসারণের হার প্রতি সেকেন্ডে প্রতি মেগাপারসেকে ৭৩.৫ কিলোমিটার। এই পরিমাপের অনিশ্চয়তার হার মাত্র এক শতাংশেরও কম ($±০.৮১$)।

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ‘সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রফিজিক্স’ (কাসা)-এর কোর গ্রুপের সদস্য ড. সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্রটির অন্যতম রচয়িতা। ‘এইচ নট ডিসট্যান্স নেটওয়ার্ক’ (এইচওডিএন) কোলাবোরেশনের অধীনে তিনি এই গবেষণা সম্পন্ন করেন। 

তাদের প্রকাশিত গবেষণাপত্রটির নাম ‘দা লোকাল ডিসট্যান্স নেটওয়ার্ক : এ কমিউনিটি কনসেনসাস রিপোর্ট অন দা মেজারমেন্ট অফ দা হাবল কন্সট্যান্ট অ্যাট ∼১% প্রিসিশন’। এটি প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত “অ্যাস্ট্রনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রফিজিক্স” সাময়িকীতে।

মহাবিশ্বের প্রসারণের হার বা ‘হাবল কনস্ট্যান্ট’ ($H_0$) পরিমাপের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ ছিল, যা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘হাবল টেনশন’ নামে পরিচিত। সিএমবি পদ্ধতি এবং নিকটবর্তী ছায়াপথ পর্যবেক্ষণের ফলাফলের মধ্যে এই অমিলকে অনেকে গাণিতিক বা পদ্ধতিগত ত্রুটি মনে করতেন।তবে ড. আশরাফ ও তাঁর সহযোগীদের গবেষণায় দেখা গেছে, বিষয়টি কেবল পদ্ধতিগত ত্রুটি নয়। 

ড. আশরাফ উদ্দিন বলেন, “আমরা বিভিন্ন পদ্ধতিকে একটি সমন্বিত ‘ডিসট্যান্স নেটওয়ার্ক’-এর আওতায় এনে বিশ্লেষণ করেছি। দেখা গেছে, ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেও ফলাফলগুলো পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ‘হাবল টেনশন’ কোনো গণনাগত ভুল নয়, বরং পদার্থবিজ্ঞানের আরও গভীর কোনো অজানা রহস্যের দিকে নির্দেশ করছে।”

এই গবেষণায় পক্ষপাতহীন বিশ্লেষণের জন্য অতীতে বিভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ড. আশরাফ জানান, ভবিষ্যতে শক্তিশালী টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া তথ্য আরও নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণের জন্য তাঁরা একটি স্বচ্ছ ও নমনীয় গবেষণা কাঠামো তৈরি করেছেন।

আইইউবির ‘কাসা’-র পরিচালক ড. খান মোহাম্মদ বিন আসাদ বলেন, “কাসার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের গবেষকদের আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত করছি। এতে দেশের তরুণদের জন্য মহাকাশ বিজ্ঞানে উচ্চতর গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।”

দেশের প্রথম ও একমাত্র জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে কাসা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালে। সম্প্রতি আইইউবির অ্যাকাডেমিক ভবনের ছাদে একটি ছোট আকারের ট্রান্সিয়েন্ট অ্যারে রেডিও টেলিস্কোপ (টার্ট) স্থাপন করেছে কাসা। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা উত্তর গোলার্ধেরই প্রথম টার্ট টেলিস্কোপ, যার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক মহাকাশ গবেষণার যাত্রা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা এবং এতে তরুণদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছে কাসা।


আমার বার্তা/এমই