কুবিতে নানা আয়োজনে ‘জুলাই প্রতিরোধ দিবস’ পালিত
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ২২:৩১ | অনলাইন সংস্করণ
কুবি প্রতিনিধি:

জুলাই বিপ্লবে প্রথম সহিংস পুলিশি হামলা ও হামলার প্রতিবাদের স্বীকৃতিস্বরূপ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) 'প্রথম প্রতিরোধ দিবস' পালিত হয়েছে।
রবিবার (১২ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে প্রতিরোধ দিবসের অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে ‘প্রতিরোধ দিবস’ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম, মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারিন বিনতে এনাম এবং আইসিটি বিভাগের প্রভাষক মবিনুর রহমান।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুর পর জাতীয় সংগীত ও জুলাই আন্দোলনে শহিদ কুবি ছাত্র আবদুল কাইয়ুমের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরবর্তীতে দেশাত্মবোধক গান এবং জুলাই আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বীরত্ব খচিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনে কুবি শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা স্থানীয় লোকদের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে আলোচনা সভাটি শুরু হয়।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ হতে বক্তব্যে জুলাই পরবর্তী সময়ে ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানানো হয়। এছাড়াও নতুন ক্যাম্পাসের সঙ্গে পুরাতন ক্যাম্পাসের সংযোগের জন্য একটি সংযোগ সড়কের দাবিও উপস্থাপন করা হয়।
এসময় বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, "২৪ এর আন্দোলন শুধু সরকার পতনের নয়, এটি রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলন। আমরা এমন রাষ্ট্র চাই যেখানে আইনের শাসন হবে, মেধার মূল্যায়ন হবে, গবেষণা, মানবতা ও জাতীয় উন্নয়ন রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারে এই দেশ আমাদের, এই দেশ ন্যায়ের, এই দেশ মানবতার। এই দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার।"
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, "ইতিহাস আমাদের শুধু অতীতকে মনে করায় না, ভবিষ্যতের পথও দেখায়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, সত্যে অবিচল থাকা এবং গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াই প্রতিরোধের প্রকৃত শিক্ষা। আমরা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যেখানে মতের ভিন্নতা ও প্রতিযোগিতা থাকলেও সহিংসতা, বৈষম্য বা পারস্পরিক অসম্মান থাকবে না।"
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরিফুল করীম বলেন, "আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে 'স্টুডেন্ট ফার্স্ট'। জুলাইতে ছাত্রীরা তাদের ভাইদেরকে আগলে রেখেছিল, তাদের ভাইদেরকে বিজয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। তাদের ভূমিকাকে স্মরণীয় করে রাখতে ছাত্রীদের জন্য আমরা একটি কর্নার তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, নাম হবে 'অরুণিমা কর্নার'। কর্নারটিতে থাকবে, স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুম, নামাজ পড়ার স্থান এবং ক্লাসের ফাঁকে বিশ্রাম নেয়ার ব্যবস্থা। প্রয়োজনে সেখানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারেরও ব্যবস্থা করা হবে বলেন জানান।"
মুখ্য আলোচক অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, "জুলাইয়ের এই সফলতার মূল মন্ত্র ছিলো ঐক্য। দলমত নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের সকল মানুষ একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কারণে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। রাষ্ট্রের বিরোধী এই ক্ষমতার বিরুদ্ধে এই ঐক্যবদ্ধ শক্তি দাঁড়িয়েছিল বলেই এই দিবস সফল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন শিক্ষার মানের উন্নয়ন। কুবির শিক্ষার্থীদের খাবার, আবাসন এবং যাতায়াত সুবিধার অগ্রগতির জন্য বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্ব দেয়ার প্রতি আহ্বান করছি।"
সরকারি চাকুরি প্রাপ্তির বিষয়ে সায়মা ফেরদৌস বলেন, এখন পেছনের দরজা দিয়ে চাকুরি পাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছর হয়েছে, এসব বন্ধ করতে পেরেছি। সফলভাবে প্রশ্নফাঁস রোধ হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।
জুলাই প্রতিরোধ দিবস অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “ উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, আজকের অনুষ্ঠানের সম্মানিত মুখ্য আলোচক এবং আমার সকল সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যাঁদের আন্তরিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
