আওয়ামী লীগ আমলের সব শিক্ষক-কর্মকর্তার নিয়োগ পর্যালোচনা করবে ঢাবি

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৯:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সব নিয়োগ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ঢাবির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব নিয়োগ পর্যালোচনা করা হবে।

গত ২৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিন্ডিকেট সদস্যরা জানান, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের নিয়োগ কোন প্রক্রিয়ায় এবং কীভাবে হয়েছে- তা খতিয়ে দেখা হবে। পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। কোনো নিয়োগে অনিয়ম-ত্রুটি পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিগত ১৫ বছরের নিয়োগ পর্যালোচনার জন্য উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটিতে অনুষদগুলোর ডিনরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সভায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, বিশ্বব্যাংক ও ইউজিসির অর্থায়নে পরিচালিত হেকেপ প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়।

হেকেপ প্রকল্পের গবেষণা তহবিলের সঠিক ব্যবহার খতিয়ে দেখতে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের চিহ্নিত করতে উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানের সমন্বয়ে চার সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

কমিটি ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’ প্ল্যাটফর্মের জমা দেওয়া ২৩১ জন শিক্ষকের তালিকা পর্যালোচনা করবে। অভিযুক্ত শিক্ষকরা কোনো শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে ওই সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, ঢাবির আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে। এ দাবিতে গত ২৭ জুলাই ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দের’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।

এ সময় তারা জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ও ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা আওয়ামী ও বামপন্থি ২৩১ জন শিক্ষকের তালিকা হস্তান্তর করে তাদের শাস্তি ও নীল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানান।

জানতে চাইলে ঢাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, সিন্ডিকেটে সর্বসম্মতভাবে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যেসব তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে, সেগুলোর প্রতিবেদন জমা পড়লে তা বিবেচনা করে প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।


আমার বার্তা/এমই