বেনাপোল স্থল বন্দরে ফের ৩০ লাখ টাকার অবৈধ ইলিশ মাছ আটক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ
যশোর প্রতিনিধি:

বেনাপোল স্থল বন্দরে আবারও ঘোষনা বহির্ভুত ৩০ লাখ টাকার সাড়ে তিন টন ইলিশ আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশ জব্দের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো অভিযান নয়। এটি শুল্ক ফাঁকি, ঘোষণার বাইরে পণ্য আমদানি এবং কাস্টমসের ভেতর-বাইরের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডেরই প্রতিফলন বলে জানিয়েছে বন্দর ও তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৩১ নম্বর কাঁচামাল শেডে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুটি ভারতীয় ট্রাক আটক করা হয়। পণ্য খালাসের সময় সন্দেহ তৈরি হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কায়িক পরীা চালানো হয়।
কাস্টমস সূত্র জানায়, ঘোষণাপত্রে ‘সুইট ফিস’ হিসেবে বোয়াল, ফলি ও বাঘাইর মাছের উল্লেখ থাকলেও পরীা করে দেখা যায় ২২৫ প্যাকেজের মধ্যে ৫৪ প্যাকেজে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ। জব্দ ইলিশের বাজারমূল্য আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা। ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার স্পষ্ট অমিল থাকায় পুরো চালানটি তাৎণিকভাবে জব্দ করা হয়।
বেনাপোল স্থল বন্দরের ট্রাফিক পরিদর্শক শাহদত হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে প্রথমে বিজিবি মাঠে আসে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশির জন্য। এর কিছু সময় পর আসে কাস্টমস এর উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা। তারপর পণ্যবাহি ভারতীয় ডই-২৫ ক-৩০২৯ ডই-১১ উ-৫০২৭ নম্বর ট্রাক খুলে সেখানে সুইট ফিস এর মধ্যে সাড়ে তিন টন ইলিশ পাওয়া যায়।
নথিপত্র অনুযায়ী, চালানটির ভারতীয় রপ্তানিকারক মেসার্স আরজে ইন্টারন্যাশনাল। বাংলাদেশি আমদানিকারক হিসেবে দেখানো হয়েছে সাতীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজকে। কাস্টমস কিয়ারেন্সের দায়িত্বে ছিল বেনাপোলের সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান লিংক ইন্টারন্যাশনাল।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই তিন জনের সমন্বয়েই উচ্চমূল্যের ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য কম শুল্কে খালাসের চেষ্টা চলছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট কিছু সি অ্যান্ড এফ এজেন্টকে সুবিধা দিতে কাস্টমসের ভেতরের কয়েকজন কর্মকর্তা পদের অপব্যবহার করে আসছেন।
প্রতিটি চালানের বিপরীতে মোটা অঙ্কের ঘুষ ও মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ইলিশ জব্দের ঘটনাটি সেই অভিযোগের বাস্তব প্রমাণ। শুল্ক গোয়েন্দাদের প্রাথমিক তদন্তেও অবৈধ আমদানির পেছনে কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতার অভিযোগ সামনে এসেছে।
স্থল বন্দরের ৩১ নং ইয়ার্ড এর দায়িত্বরত সুপার উদ্ভব চন্দ্র পালকে কয়েকবার ফোন দিয়ে ও পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ করার না শর্তে জনৈক একজন সিএন্ড এফ কর্মচারী বলেন, এসব অবৈধ পণ্য আমদানির সাথে কাস্টমস সুপার উদ্ভব চন্দ্র পাল জড়িত। সে এই ইয়ার্ডে প্রচার অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যেমে সরকারের কোটি কোটি টাকা শুল্ক ফাকি দেওয়ার সহযোগিতা করছে বড় অংকের ঘুষ নিয় আমদানি কারকদের।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ‘ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার মধ্যে বিশাল অমিল পাওয়া গেছে, যা শুল্ক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।আমদানিকারক সি অ্যান্ড এফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তদন্তের আওতায় রয়েছেন।’
তিনি আরো জানান, তদন্তে যদি কাস্টমসের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, তাহলে আইন ও বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
