ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ইউপি চেয়ারম্যান কে অবরুদ্ধ
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:২৮ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজারে সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে জিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঙ্গরা বাজারের সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে জিনোদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আওয়াল রবি তার লোকজন নিয়ে একটি দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ সময় বাজার কমিটির সভাপতি ও জিনোদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শামীম মিয়া এবং কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মজনুসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এতে বাধা দেন।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। পরে সংঘর্ষে যোগ দেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব কাউছার আহমেদ ও তার সমর্থকরাও। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে চেয়ারম্যান রবিউল আওয়াল রবি, তার ভাই যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলামসহ প্রতিপক্ষের শামীম মিয়া, তার ছেলে শান্ত, আতিক ও মজনুসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা চেয়ারম্যান ও তার স্বজনদের ঘিরে ধরে গণপিটুনির চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চেয়ারম্যান রবিউল আওয়াল রবি, তার ভাই রুবেল মিয়া ও মামাতো ভাই পলাশ মিয়াকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আটক চেয়ারম্যান রবিউল আওয়াল রবি অভিযোগ করে বলেন, সময়মতো পুলিশ না পৌঁছালে প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা কাউছার আহমেদ বলেন, বাজারের সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে দোকান নির্মাণের চেষ্টা করলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা বাধা দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যানের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
