মসজিদের কক্ষে মুয়াজ্জিনের মরদেহ, মৃত্যু ঘিরে রহস্য!

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:১২ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনের থাকার কক্ষ থেকে মো. সায়েম (২০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কক্ষের সিলিংয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দড়ি পাওয়ায় তার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মাগরিবের নামাজের পর উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের উত্তর পাঙ্গাশিয়া গ্রামের হাওলাদার বাড়ির বাইতুল মামুর জামে মসজিদ থেকে সায়েমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সায়েম পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠি ইউনিয়নের জামুরা গ্রামের প্রয়াত জব্বার মৃধার ছেলে। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে ওই মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মাগরিবের নামাজ শেষে হাওলাদার বাড়ির মো. ইউসুফ হাওলাদার মসজিদের মুয়াজ্জিনের থাকার কক্ষে যান। সেখানে প্রবেশ করে তিনি সায়েমকে পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় কক্ষের সিলিংয়ের সঙ্গে একটি দড়ি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা সায়েমকে উদ্ধার করে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মো. ইউসুফ হাওলাদার বলেন, আমি কক্ষে প্রবেশ করে দেখি মুয়াজ্জিন সাহেব পড়ে আছেন। এরপর আশপাশের লোকজনকে ডাকি। পরে তাকে বারান্দায় নামিয়ে আনা হয়। তখন দেখি তিনি আর বেঁচে নেই।

এদিকে কক্ষের সিলিংয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দড়ি পাওয়ায় স্থানীয়দের কেউ কেউ সায়েম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন। তবে নিহতের স্বজনরা এ ধারণা মানতে নারাজ। তাদের দাবি, সায়েমের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। এর পেছনে রহস্য থাকতে পারে।

ফলে সায়েম আত্মহত্যা করেছেন নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এ নিয়ে এলাকায় ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।