পদ্মার পাড়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দি
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:১২ | অনলাইন সংস্করণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

পদ্মা যখন ভয়ঙ্কর হয় তখন মানুষের বিপদের শেষ থাকে না। আবারও গর্জন করে উঠেছে পদ্মার পানি। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৭৬ মিটার। নদীর বিপৎসীমা ২২ দশমিক ৫ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি।
শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানা গেছে।
এ ছাড়া পদ্মার পাশাপাশি মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতেও পানি বাড়ছে। বর্তমানে মহানন্দা নদীর খালঘাট গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৪৩ মিটার। এ নদীর বিপৎসীমা ২০ দশমিক ৫৫ মিটার। অন্যদিকে পুনর্ভবা নদীর রহনপুর গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৪৬ মিটারে। এ নদীর বিপৎসীমা ২১ দশমিক ৫৫ মিটার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী শনিবার পর্যন্ত পদ্মার পানি বাড়তে পারে। এরপর পানি কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।
এদিকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন চাঁপাইনববাগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার ইকরামুল হোসাইন। এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. আল আওয়াল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহীনুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কাঞ্চন কুমার দাস, সহকারী শিক্ষা অফিসার মাহবুব হোসেন এবং নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা পানিবন্দি হওয়া, যাতায়াত, কৃষিকাজসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরেন।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার ইকরামুল হোসাইন বলেন, নদীর পানি স্কুল ভবনে প্রবেশ করার কারণে কয়েকটি স্কুল বন্ধ আছে। এ ছাড়া যারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে তাদেরকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে।
