জামায়াত নেতার কয়লার ভাটা গুঁড়িয়ে দিল নড়াইল প্রশাসন

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১২ | অনলাইন সংস্করণ

  নড়াইল প্রতিনিধি

পরিবেশ অধিদপ্তর ও নড়াইল জেলা প্রশাসন জামায়াত নেতা হাসিবুর মোল্যার সেই অবৈধ কয়লা তৈরির ভাটায় অভিযান চালিয়ে আটটি চুল্লি ধ্বংস করেছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদরের বিছালী ইউনিয়নের আটঘরা এলাকায় ভাটাটিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ধ্বংসের আদেশ দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. রুবেল শেখ।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নড়াইল সদরের আটঘরা এলাকার একটি বাগানের মধ্যে অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা উৎপাদন করে আসছিলেন স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি হাসিবুর মোল্যা। পরিবেশ ও জনজীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এ অবৈধ কয়লা ভাটার সন্ধান পেয়ে যৌথ অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন।

অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে কয়লা ভাটার আটটি চুল্লি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জ্বলন্ত চুল্লির আগুন নেভান। অভিযানের খবর পেয়ে ভাটায় কর্মরত শ্রমিক ও মালিক পালিয়ে যান। ভাটায় ব্যবহৃত কাঠ ও একটি ট্রলি জব্দ করে জেলা প্রশাসন।

অভিযানে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল মালেক মিয়া ছাড়াও জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই এলাকায় অবৈধ কয়লা ভাটার সংবাদ সংগ্রহে যান সময় টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ সজিবুর রহমান ও স্থানীয় আরেক সংবাদকর্মী রাসেল হুসাইন। সংবাদ সংগ্রহ শেষে খবর প্রচার না করতে টাকা দিয়ে তাদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন ভাটার মালিক ও স্থানীয় বিছালী ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি হাবিবুর মোল্যা। টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে লোকজন জড়ো করে ওই সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করেন জামায়াত নেতা ও তার অনুসারীরা।

ঘটনার দুই দিন পর জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে ওই জামায়াত নেতার অবৈধ কয়লা ভাটা ধ্বংস করে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুবেল শেখ বলেন, কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, যা জেলা প্রশাসনের নজরে আসে।

তিনি বলেন, কয়লা ভাটার নির্গত কালো ধোঁয়া (কার্বন মনোক্সাইড) পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ বিষয়ে খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভাটায় কর্মরত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। চুল্লিগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। কাঠ ও একটি ট্রলি জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।