খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটিতে আধাবেলা অবরোধ, সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি জেলায় আধা বেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি চলছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ।
শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করতে দেখা গেছে। অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ি থেকে দূরপাল্লার সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছি। অবরোধকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাতেই আমাদের এ কর্মসূচি।’
সাজেকে অবরোধ চলছে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামের দুটি সংগঠনের ডাকে। সংগঠন দুটির তৃতীয় দফায় ডাকা অবরোধের প্রথম দিন গত বৃহস্পতিবার সাজেকের উজোবাজার এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই দিন সকাল থেকেই অবরোধকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। অবরোধকারীরা পর্যটকবাহী গাড়িবহর চলাচলে বাধা দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সরিয়ে দিলে গাড়িবহরটি সামনে এগিয়ে যান। এরপর বেলা ১১টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ।
এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে সাজেকে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ পর্যটককে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফেরার পথে অবরোধ ও গোলাগুলির ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে সাজেকবাসীর দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), খাগড়াছড়ি জেলা শাখা। সংগঠনটি আধা বেলা শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা।
এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অবরোধের কারণে পর্যটন খাতেও প্রভাব পড়েছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কর্মসূচির কারণে হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও পরিবহনের বুকিং বাতিল হয়েছে। এতে কটেজমালিকসহ পর্যটন খাতের অন্য ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবাহী গাড়ি, ফায়ার সার্ভিসের যানবাহন, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যান এবং সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়ি। খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পর্যটন উদ্যোক্তা ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
