ভর্তুকি ও বাড়তি সুবিধা পেয়েও টেলিটকের অগ্রগতি নেই: নুরুল কবীর
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ১৩:০১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ভর্তুকি, বাড়তি স্পেকট্রাম ও নানা ধরনের নীতিগত সুবিধা পাওয়ার পরও রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফআইসিসিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল কবীর।
তিনি বলেন, টেলিটক কেন শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও গ্রাহক ভিত্তি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলো, সেটির কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে সক্ষম করতে বিদেশি বিনিয়োগ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে টিআরএনবি আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ : নতুন সরকার কী ভাবছে’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল কবীর বলেন, নীতির অনিশ্চয়তা ও বারবার পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কোনো দেশে বিনিয়োগ করতে আসে। কিন্তু মাঝপথে নীতি পরিবর্তন হলে তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনাও বদলে যায়। তখন তারা বিকল্প অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কায় বেসরকারি খাত থেকে একজনকে প্রেসিডেন্টের ডিজিটাল ইকোনমি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার কাজ পুরো দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের রোডম্যাপ ও অবকাঠামো তৈরি করা। বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক সেরা চর্চাগুলো বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা দরকার।
টেলিকম খাত প্রসঙ্গে নুরুল কবীর বলেন, দেশে তিনটি বিদেশি ও একটি দেশীয় মোবাইল অপারেটর রয়েছে। দেশীয় অপারেটর টেলিটককে বেশি স্পেকট্রাম দেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাশিত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও গ্রাহকসংখ্যা বাড়াতে পারেনি। কেন পারেনি, তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। সরকার টেলিটককে কত ভর্তুকি দিচ্ছে, সেই হিসাবও সরকারের কাছে রয়েছে। সম্প্রতি টেলিটককে স্পেকট্রাম দেওয়া হলেও এর অর্থ পরিশোধ স্থগিত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা কিংবা নরওয়ের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিনর নিজেদের দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে সফলভাবে সেবা দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে টেলিটক চালুর সময় মানুষের যে আগ্রহ ও আবেগ ছিল, সেটি কেন হারিয়ে গেল, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
স্পেকট্রাম নীতির সমালোচনা করে নুরুল কবীর বলেন, চীনসহ বিভিন্ন দেশে প্রতি অপারেটরকে ন্যূনতম ১০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম দেওয়া হয়, যাতে তারা মানসম্মত সেবা দিতে পারে। সেখানে বাংলাদেশে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) অনেকটা রাজস্ব আদায়ের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। স্পেকট্রাম বিক্রি করে কত আয় করা যায়, সে লক্ষ্যেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, টেলিটক ও বিটিসিএলের অবকাঠামো একত্র করা গেলে বড় সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি টেলিটককে আরও সক্ষম করতে বিদেশি বিনিয়োগকারী আনার পরামর্শ দেন তিনি। টেলিকম একটি প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প। তাই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করে তাদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মদক্ষতার সূচক (কেপিআই) নির্ধারণ করা গেলে টেলিটক আরও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।
টিআরএনবির সভাপতিত্ব সমীর কুমার দে’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবির হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া মুখ্য আলোচক হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী, মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকারসহ খাতসংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
