ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান-টিয়ারগ্যাস
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে।
সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীতে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
সকালের দিকে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। তারা সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও কিছু সময় পর আবারও ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের আশপাশে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে।
তারা দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তার নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকে আবারও অনিয়ম ও লুটপাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।
ঘটনার পর ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস রোববার (২৪ মে) বিকেলে হঠাৎ করে ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান। ওইদিন কয়েক ঘণ্টা পরেই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ ও চাপের মুখে পদত্যাগ করা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হন।
এদিকে চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়ায় পর সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটির আমানতকারীদের একাংশের আশঙ্কা, যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিতর্কিত ব্যক্তিকে শীর্ষ পদে বসানো হলে ব্যাংকটি নতুন করে আস্থার সংকটে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল ও পুনর্বিবেচনার দাবি জানান গ্রাহকরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া গভর্নর ও চারজন ডেপুটি গভর্নরের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভের মুখে মো. খুরশীদ আলম এবং অপর ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
