ডিজেলের দাম বেড়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরে চুক্তি দর সমন্বয় চান বার্থ অপারেটরর
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা বার্থ অপারেটরদের চুক্তি দর জ্বালানি তেলের বর্তমান মূল্যের সঙ্গে সমন্বয়ের দাবি উঠেছে। টেন্ডার দাখিলের সময়ের তুলনায় ডিজেলের দাম ৬৯ শতাংশ বেড়ে গেলেও সেই অনুপাতে চুক্তি দর সমন্বয় না হওয়ায় পরিচালন ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন বার্থ অপারেটররা।
এ দাবিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বার্থ অপারেটিংয়ের বর্তমান চুক্তি দর পুনর্নির্ধারণ বা সমন্বয় করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি ওটিএম পদ্ধতিতে আহ্বান করা দরপত্রে তৎকালীন জ্বালানি ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীর বাজারদর বিবেচনায় নিয়ে বার্থ অপারেটররা দর নির্ধারণ করে দরপত্র দাখিল করেন। ওই সময় ডিজেলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ৮০ টাকা।
এরপর ২০২২ সালের ৫ আগস্ট ডিজেলের দাম একদফায় লিটারপ্রতি ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়। পরে আরও ১৫ টাকা বাড়ে। অর্থাৎ টেন্ডার দাখিলের সময়ের তুলনায় একপর্যায়ে ডিজেলের দাম ৪৯ টাকা বেড়ে যায়।
সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে লিটারপ্রতি আরও ২০ টাকা বাড়িয়ে ডিজেলের দাম করা হয়েছে ১৩৫ টাকা। এতে ২০২২ সালের টেন্ডারের সময়ের ৮০ টাকা থেকে বর্তমান দাম বেড়েছে ৫৫ টাকা বা প্রায় ৬৯ শতাংশ।
বার্থ অপারেটরদের দাবি, তাদের কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জ্বালানিনির্ভর। ফলে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। কিন্তু চুক্তি দর একই থাকায় বাড়তি ব্যয় নিজেদের বহন করতে হচ্ছে অপারেটরদের।
বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, জ্বালানির দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি হচ্ছে কিন্তু আমাদের চুক্তি সমন্বয় হচ্ছে না। জ্বালানি দাম বৃদ্ধির কারণে চুক্তি দর সমন্বয়ের জন্য আমরা চিঠি দিয়েছি। চুক্তি সমন্বয়ের জন্য জোর দাবি করছি।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার হাসিনা আরজু ঢাকা পোস্টকে বলেন, চিঠিটা আমরা এখনো পাইনি। বিকডার একটা চিঠি আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এরইমধ্যে বন্দরকেন্দ্রিক সাপ্লাই চেইনের অন্য অংশেও পড়েছে। ডিজেলের দাম ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ার পর বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো বা আইসিডি থেকে দেওয়া ডিজেলনির্ভর বিভিন্ন সেবার চার্জ ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা)।
বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আইসিডিগুলোর অপারেশনাল ব্যয় সরাসরি বেড়েছে। এ কারণে ডিজেল নির্ভর সেবাগুলোর বিপরীতে বর্ধিত চার্জ কার্যকর করা হয়েছে। এটি আমরা যৌক্তিক চার্জ নির্ধারণ করেছি। এই বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
অর্থাৎ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব একদিকে আইসিডির সেবামূল্যে পড়লেও বার্থ অপারেটররা বলছেন, তাদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চুক্তিদরের সঙ্গে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের সমন্বয় হয়নি। ফলে বন্দরকেন্দ্রিক কনটেইনার পরিবহন ও হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, পোশাক খাতের টেকসই অগ্রগতির জন্য বন্দর, বেসরকারি অফডক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। বিশেষ করে ইনপুট-রপ্তানি ব্যবসায়ীরা বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর ওপর নির্ভরশীল। মূলত পুরো ব্যবসা কার্যক্রমই বন্দরকেন্দ্রিক। বন্দরে প্রতিটি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সঙ্গে পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচ যুক্ত হয়।
তিনি বলেন, এককভাবে আলোচনা ছাড়া কোনো চার্জ নির্ধারণ বা বাড়ানো হলে পুরো সাপ্লাই চেইনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। কারণ রপ্তানিকারকেরা আগের নির্ধারিত মূল্যে পোশাক রপ্তানির অর্ডার গ্রহণ করেন। এ অবস্থায় হঠাৎ এক নোটিশে অফডকের চার্জ বাড়ানো হলে সেই অতিরিক্ত ব্যয় ব্যবসায়ীদের বহন করতে হয়, ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই কোনো ধরনের চার্জ পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করা প্রয়োজন।
