রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত সত্য উন্মোচনের দাবিতে উত্তাল ওপার বাংলা
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৪:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক এবং রহস্যময় মৃত্যু কেবল একটি শোকের সংবাদ হয়ে থাকেনি, বরং এটি এখন বিনোদন জগতের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ৪৩ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান অভিনেতার প্রয়াণে শোকাতুর দুই বাংলার শিল্পী সমাজ এখন একসুরে ‘সুষ্ঠু তদন্ত’ এবং ‘দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি’ দাবি করছেন।
রাহুলের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুটিং ইউনিটের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য এবং পরে সামনে আসা তথ্যের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। পরিবারের দাবি, যদি কোনো ঝুঁকিপূর্ণ শুটিং পরিকল্পনা না-ই থাকে, তবে কেন রাহুলকে উত্তাল সমুদ্রে নৌকায় তোলা হলো? নির্মাতা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পর (যেখানে তিনি পানির ওপর শুটিংয়ের পরিকল্পনা অস্বীকার করেছেন) এই প্রশ্নটি এখন সবচেয়ে বেশি জোরালো হয়েছে।
সহকর্মীদের ক্ষোভ: ‘নিরাপত্তা কোথায়?’
কলকাতার টলিপাড়া ও ঢাকার অভিনয় শিল্পীদের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাঁদের মূল দাবিগুলো হলো:
অনুমতিহীন শুটিং: ওড়িশা পুলিশকে কেন আগে জানানো হয়নি? কোনো আউটডোর শুটিংয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি এবং লাইফগার্ডের ব্যবস্থা কেন ছিল না?
টেকনিক্যাল ত্রুটি: ড্রোনে শট নেওয়ার সময় নৌকার ভারসাম্য রক্ষা করার মতো বিশেষজ্ঞ সেখানে ছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বর্ষীয়ান অভিনেতা।
প্রোডাকশন হাউসের দায়: শিল্পীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কেন শ্যুটিং এগিয়ে নেওয়া হলো, তা নিয়ে বিবাদী পক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিত্রসহ শুটিং ইউনিটের একাধিক সদস্যের বয়ান পুনরায় রেকর্ড করা হচ্ছে। ‘ইউডি’ (অস্বাভাবিক মৃত্যু) মামলার আওতায় পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে এটি কি নেহাতই অসাবধানতা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গাফিলতি ছিল। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ, যা এই রহস্যের জট খুলতে সাহায্য করবে।
ইতিমধ্যেই কলকাতার শিল্পী মহলে একটি শোকসভার পাশাপাশি ‘সুষ্ঠু তদন্তের দাবি’ সম্বলিত স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, রাহুলের মৃত্যু যেন কেবল একটি ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে ফাইলবন্দি হয়ে না যায়।
আমার বার্তা/এমই
