যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে বন্দুক হামলায় শিশুসহ নিহত ৬
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের একটি গ্রামীণ এলাকায় ভয়াবহ বন্দুক হামলায় সাত বছরের এক শিশুসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) একক বন্দুকধারী তিনটি পৃথক স্থানে এই হামলা চালায়।
এ ঘটনায় ২৪ বছর বয়সী দারিকা মুর নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে প্রথমে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত হত্যার অভিযোগ যুক্ত করে মামলাটি ক্যাপিটাল মার্ডারে উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন ক্লে কাউন্টির শেরিফ এডি স্কট। শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
শেরিফ স্কট জানান, এই ভয়াবহ হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তিনি এনবিসি নিউজকে বলেছেন, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বন্দুকধারীর আত্মীয়স্বজন।
সংবাদ সম্মেলনে শেরিফ এডি স্কট হামলার পুরো সময়ক্রম তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিটে সিডার ব্লাফ এলাকার ব্লেক রোডের একটি ঠিকানা থেকে ৯১১ নম্বরে প্রথম ফোন আসে। সেখানে গুলিবিদ্ধ একাধিক ব্যক্তির খবর দেওয়া হয়। সিডার ব্লাফ ক্লে কাউন্টির পশ্চিমাংশে অবস্থিত একটি ছোট ও গ্রামীণ, অননুমোদিত জনপদ।
তদন্তে জানা যায়, হামলার সূচনা হয় সিডার ব্লাফের ডেভিড হিল রোডে অবস্থিত একটি বাড়ি থেকে। সেখানে দারিকা মুর প্রথমে তার বাবা গ্লেন মুর (৬৭), চাচা উইলি এড গাইনস (৫৫) এবং ভাই কুইন্টিন মুরকে (৩৩) গুলি করে হত্যা করেন।
শেরিফ স্কট জানান, পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনেরই মাথায় গুলির ক্ষত দেখতে পান ও ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
এরপর মুর তার ভাইয়ের মালিকানাধীন একটি ফোর্ড এফ-১৫০ পিকআপ ট্রাক চুরি করে নিয়ে যান বলে জানান শেরিফ। সেই ট্রাকেই তিনি ব্লেক রোডের একটি বাড়িতে যান, যেখান থেকে ৯১১-এ ফোন করা হয়েছিল।
শেরিফ স্কট জানান, ওই বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে মুর আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে বাড়ির ভেতর থাকা সাত বছরের এক কন্যাশিশুকে গুলি করে হত্যা করেন।
শেরিফ জানান, নিহত শিশুটির মা, যিনি মুরের চাচাতো বোন, সে সময় বাড়িতে ছিলেন। তার সঙ্গে আরও তিনজন শিশু ছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায়, নিহত শিশুটির মাথায় গুলি লেগেছে। শেরিফ স্কট আরও জানান, ওই বাড়ির ভেতরে থাকা আরেকটি ছোট শিশুর মাথায় একটি অস্ত্র আটকে থাকতে দেখা যায়। ওই শিশুটিকেও গুলি করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এরপর মুর চুরি করা ট্রাক নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে ধারণা করছে পুলিশ। পরে তিনি ক্লে কাউন্টির পশ্চিমাংশের সাইলাম-গ্রিফিন রোডের একটি ঠিকানায় যান, সেখান থেকেও ৯১১ নম্বরে ফোন আসে।
সেই বাড়িতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দেখতে পান, বাড়ির পেছনে চুরি করা ট্রাকটি লুকানো অবস্থায় রয়েছে এবং পেছনের দিকে জোরপূর্বক প্রবেশের চিহ্ন আছে। বাড়ির ভেতরে ঢুকে তারা দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে- ব্যারি ব্র্যাডলি ও স্যামুয়েল ব্র্যাডলি। তারা দুজনই কলম্বাস শহরের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, দুজনের মাথায় গুলি লেগেছিল এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
শেরিফ স্কট বলেন, কেন এই দুজনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তিনি জানান, নিহতদের একজন স্থানীয় একটি গির্জার পাদ্রি ছিলেন, যেখানে মুরের পরিবারের কিছু সদস্য যাতায়াত করতেন।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিসসহ একাধিক সংস্থার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযানে পাইনের গ্রোভ রোড ও জো মায়ার্স রোডের সংযোগস্থলে দারিকা মুরকে গ্রেফতার করেন। গ্রেপ্তারের সময় কোনো ধরনের প্রতিরোধের ঘটনা ঘটেনি।
শেরিফ জানান, গ্রেফতারের সময় মুর আরেকটি চুরি করা গাড়ি চালাচ্ছিলেন, যা তিনি শেষ বাড়িটি থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে শেরিফ এডি স্কট বলেন, তার ৩০ বছরের কর্মজীবনে এটি ছিল সবচেয়ে কঠিন মামলাগুলোর একটি। তিনি বলেন, আমরা সবাই নিহত ও তাদের পরিবারের জন্য প্রার্থনা করছি। এই হত্যাকাণ্ড পুরো কমিউনিটিকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে।
শেরিফ স্কট জানান, তার দপ্তরের কাছে অভিযুক্ত মুরের বিরুদ্ধে এর আগে কোনো অভিযোগ বা ঘটনার রেকর্ড ছিল না। একইভাবে লক্ষ্যবস্তু হওয়া বাড়িগুলোর বিরুদ্ধেও আগে কোনো কল বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, গত রাতে আমি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কখনোই ভাবেনি যে সে এমন কিছু করতে পারে।
এ ঘটনায় তদন্ত এখনো চলমান। জেলা অ্যাটর্নি স্কট কোলম জানিয়েছেন, এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আমার বার্তা/এল/এমই
