তেহরানে নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলা, বিকট বিস্ফোরণ

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:১১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানে ‘ব্যাপক বিমান হামলা’ শুরুর ঘোষণার পরপরই এসব বিস্ফোরণ ঘটে। 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে- ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে ‘ব্যাপক হামলা’ শুরু করেছে তারা। বুধবারের এই আক্রমণ ইরানের পক্ষ থেকে ছোড়া কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব।

ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই ‘হামলা’ শুরু করেছে। বিস্ফোরণের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহত নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

এর আগে মঙ্গলবার ইরানের ‘প্রধান নেতৃত্ব নির্ধারণী পর্ষদ’ ভবনে বড় ধরনের হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর আজ বুধবার নতুন করে হামলা শুরু করে দেশটি। 

বিবিসি লিখেছে, ইরানের কোম শহরে ধারণ করা দুটি ভিডিওতে দেশটির প্রধান নেতৃত্ব নির্ধারণী পর্ষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ এর সচিবালয় ভবনে হামলা করেছে ইসরায়েল। হামলায় পাশের একটি ভবনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা নিয়ে গঠিত। শনিবার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণের দায়িত্ব এখন এই পরিষদের ওপর।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহের’ জানিয়েছে, ভবনটি বেশ পুরনো। পরিষদের বর্তমান অধিবেশনগুলোর জন্য সেটি ব্যবহার করা হচ্ছিল না। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, হামলার আগেই ভবনগুলো খালি করা হয়েছিল। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, শনিবার থেকে তারা ইরানে দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে দাবি করেছেন, ইরানের সবকিছু গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে ভবিষ্যতে কারা নেতৃত্ব দিতে পারে, সেজন্য কিছু মানুষ তাদের বিবেচনায় ছিল, কিন্তু এখন তাদের সবাই মারা গেছে। খুব তাড়াতাড়ি, এমন আর কাউকে হয়তো পাওয়া যাবে না। হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রড্রেরিক মের্জের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ইরানে হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমরা ওই উম্মাদদের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম। কিন্তু আমার ধারণা, তারা আমাদের ওপরেই আগে হামলা চালাতে যাচ্ছিল। আমি সেটা হতে দিতে চাইনি।’

ট্রাম্প বলেন, ‘এই কারণে যদি কিছু হয়ে থাকে, আমার কারণেই হয়তো ইসরায়েল (হামলা চালাতে) বাধ্য হয়েছে। ইরানের সব কিছু ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তাদের এখন নৌ বাহিনী নেই, বিমান বাহিনী নেই, আকাশে বিমান শনাক্ত করার কোনো ব্যবস্থা নেই।

এ সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যে ও স্পেনের প্রতি তার অসন্তোষও প্রকাশ করেন। কারণ শুরুতে ভারত মহাসাগরে দিয়োগো গার্সিয়ায় যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি হামলার জন্য ব্যবহার করতে দিতে রাজি হয়নি যুক্তরাজ্য।


আমার বার্তা /জেএইচ