সাংবাদিক হত্যা যুদ্ধাপরাধ, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান সিপিজের
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

ইসরায়েলের হামলায় একদিনে লেবানন ও গাজায় অন্তত তিনজন সাংবাদিক নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংস্থাটি বলছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত একজনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
তারা আরও জানায়, এ ধরনের হামলার ধারাবাহিকতা দায়মুক্তির ক্রমবর্ধমান পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞারই প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে সাংবাদিকরা বেসামরিক নাগরিক হিসেবে বিবেচিত, তাই তাদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত, নির্বিচার বা অসম মাত্রার হামলা স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ এবং এর তদন্ত হওয়া উচিত।
বুধবার গাজা ও লেবাননে প্রাণঘাতী হামলা চালায় ইসরায়েল, এতে সাংবাদিক মোহাম্মদ সামির ওয়াশাহ, ঘাদা দাইয়েখ এবং সুজান খলিল নিহত হন, যা গণমাধ্যমের ওপর হামলার একটি উল্লেখযোগ্য মাত্রার বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
কাতারভিত্তিক আল জাজিরা মুবাশ্বেরের সংবাদদাতা ওয়াশাহ গাজা সিটিতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তার গাড়ি লক্ষ্য করে আঘাত হানলে নিহত হন। লেবাননে পৃথক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন সাওত আল-ফারাহের উপস্থাপক দাইয়েখ এবং আল-মানার টিভি ও আল-নূর রেডিওর প্রতিবেদক ও উপস্থাপক খলিল। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননজুড়ে ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণের মধ্যে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে, যেখানে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও কয়েক মিনিটের মধ্যে শতাধিক হামলা চালানো হয়।
এই মৃত্যু একটি ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী পরিসংখ্যানের অংশ। সিপিজের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ ইতোমধ্যেই সাংবাদিকদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বুধবারের ঘটনাসহ অন্তত ২৬০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আরও সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, শুধু লেবাননেই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অন্তত সাতজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
সিপিজের আঞ্চলিক পরিচালক সারা কুদাহ বলেন, ‘সাংবাদিকদের যেভাবে দ্রুত এবং ব্যাপক হারে হত্যা করা হচ্ছে, তা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো। এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনে বেসামরিক সাংবাদিকদের জন্য যে ন্যূনতম সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা, তার একটি পদ্ধতিগত ব্যর্থতার প্রতিফলন। জবাবদিহিতা না থাকলে এসব হামলা আরও বাড়বে এবং যারা সহিংসতার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে স্তব্ধ করতে চায়, তারা আরও উৎসাহিত হবে।’
সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং চলমান হামলা বন্ধ করতে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিপিজে। সংস্থাটি পুনরায় দাবি জানিয়েছে, গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্য করে চালানো সব হত্যাকাণ্ডকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্ত করতে আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ ইসরায়েল তার সামরিক বাহিনীর অপরাধ তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই অনীহা দেখিয়ে আসছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইউনিটের সদস্য থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ কমান্ড পর্যায় পর্যন্ত দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
গাজা ও লেবাননে সাংবাদিকদের এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বৃহত্তর আক্রমণের অংশ। এটি থামাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
