ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা অস্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১১:৩০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ইসলাবাদ সমঝোতা চুক্তির আওতায় ইরানের তেলের পর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের আলোচনায় এ সংক্রান্ত একটি নথির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবদমাধ্যম তাসনিম নিউজ।
সুইজারল্যান্ডে অবস্থানরত ইরানি প্রতিনিধি দলের সদস্য হোসেইন ঘোরবানজাদেহ তাসনিক নিউজকে বলেছেন, “ইরানের তেলের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সংক্রান্ত একটি নথির খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।”
বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে ইরানের যে অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের আদেশে ফ্রিজড অবস্থায় আছে, সেসব অবমুক্ত করতে ইরানি প্রতিনিধিরা মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তির একটি অন্যতম শর্ত ছিল যে ইরানি তেলের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র; তবে এই প্রত্যাহারের মেয়াদ থাকবে ৬০ দিন। এর মধ্যে যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি না হয়, তাহলে ৬০ দিন পর নিষেধাজ্ঞা ফের কার্যকর হবে।
তবে ইসলামবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত অনুসারে, এই চুক্তি যতদিন কার্যকর থাকবে, ততদিন ইরানের ফ্রিজড অর্থ অবমুক্তির সম্ভাবনা কম। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, কেবল স্থায়ী চুক্তি স্বাক্ষরের পরেই ইরানের ফ্রিজড অর্থ অবমুক্তির আশা আছে।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ এমওইউ মূলত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তি। এটির মেয়াদ থাকবে ৬০ দিন এবং এই ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি প্রস্তুত ও স্বাক্ষর করতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিদের।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন, ইসলামাবাদ চুক্তিতে উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে যদি স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর না হয় তাহলে ৬০ দিন পর ফের ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করবে মার্কিন বাহিনী।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
