এখনো জনসমক্ষে আসেননি মোজতবা খামেনি, বাড়ছে জল্পনা

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৮:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যাবে না— এমন দাবি করেছে সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-হাদাস। একটি ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে উপস্থিত হননি। কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই নিজের বার্তা দিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্র আল-হাদাসকে জানিয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতার নামে প্রকাশিত বার্তাগুলো তার নিজের লেখা নয়। সূত্রের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নতুন প্রধান আহমাদ ওয়াহিদি এবং বাহিনীর অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা মোজতবা খামেনির নামে এসব বিবৃতি তৈরি করছেন।

সূত্রটি আরও দাবি করেছে, ইরানের অভ্যন্তরে বর্তমানে তীব্র ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও বিভাজন চলছে, যা আইআরজিসির অভ্যন্তরীণ কাঠামোকেও চাপে ফেলেছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে ওই সূত্র জানিয়েছে, তেহরান ইসরায়েলে কোনো ধরনের হামলা চালালেও ওয়াশিংটন চায় না যে ইসরায়েল পাল্টা হামলায় অংশ নিক।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিতিকে দেশটির অভ্যন্তরে একটি বড় অনিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অনুষদ সদস্য আলিরেজা পিরুজমান বলেছেন, একজন নেতার এভাবে আড়ালে থাকা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও যুদ্ধের হুমকির কারণে খামেনি জনসমক্ষে আসছেন না। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতি কতদিন চলবে— ছয় মাস, এক বছর নাকি আরও বেশি সময়।

পিরুজমান সতর্ক করে বলেন, কোনো নেতা যদি দীর্ঘদিন জনসম্মুখ থেকে দূরে থাকেন, তাহলে তা দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা তৈরি করতে পারে।

মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ এক ঊর্ধ্বতন রক্ষণশীল নেতা রবিবার বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বর্তমানে তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না।

ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-এর বরাত দিয়ে জানা যায়, গোলাম-আলি হাদ্দাদ-আদেল, যার মেয়ে মোজতবা খামেনির সঙ্গে বিবাহিত, বলেছেন—সর্বোচ্চ নেতা ‘নির্দিষ্ট কিছু কারণে’ কোনো দল বা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না।

তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। তবে খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। তিনি শুধু আশা প্রকাশ করেছেন যে সর্বোচ্চ নেতা সুস্থ আছেন।

অন্যদিকে বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসেননি। ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতার নিয়মিত বক্তৃতা, জনসভা ও টেলিভিশন ভাষণের মাধ্যমে দৃশ্যমান থাকার দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে। ফলে তার অনুপস্থিতি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাসের সংঘাতের পর এই পরিস্থিতি আরও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তার স্বাস্থ্য এবং দেশের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি আসলে কারা পরিচালনা করছে— তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা।

ইরানি কর্মকর্তারা নিয়মিত বলে আসছেন যে মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন। তবে তিনি কেন জনসমক্ষে উপস্থিত হচ্ছেন না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

পশ্চিমা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যে হামলায় তার বাবা নিহত হন, সেই হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হয়েছিলেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরানের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন দেশটি আন্তর্জাতিক চাপ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মুখোমুখি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তা ভেঙে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতার দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে নজরদারি বেড়েছে।

তাদের ধারণা, আইআরজিসি বর্তমানে আরও বড় ভূমিকা পালন করছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব অনেকটাই জনসমক্ষের বাইরে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মোজতবা খামেনির কার্যপদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, সে বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করেননি।


আমার বার্তা/এমই