ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে আরও একজনের রক্ত পাওয়া গেছে

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ১০:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে।

ঘটনার পর তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় তিনজনের শুক্রাণুর পাশাপাশি একজনের রক্ত পাওয়া গিয়েছিল। এ নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত তনুর পোশাকে চারজনের নমুনা পাওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে এলো।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে সিআইডিতে আমি একটি চিঠি দিয়ে তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। প্রায় এক মাস আগে আমাকে জানানো হয়েছে, তিনজন পুরুষের শুক্রাণু ছাড়াও আরেকজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায়। এ নিয়ে সন্দেহভাজনের সংখ্যা চারজনে দাঁড়াল।

২০১৭ সালের মে মাসে তিনজনের শুক্রাণুর উপিস্থতির তথ্য সামনে এলেও এখন আরেকজনের তথ্য এলো বলে জানান তিনি।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়।

তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

ওই বছরই দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পাওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।

এই হত্যাকাণ্ডের জট খোলার শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালের মে মাসে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।

এ ছাড়া তনুর মায়ের সন্দেহ করা তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।

তবে ওই সময়ে তাদের নাম গণমাধ্যমকে জানায়নি সিআইডি। এখন সামনে এলো, তিন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে একজনের রক্ত পাওয়া গিয়েছিল।

গত ৬ এপ্রিল আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদনে ৩ আসামির ডিএনএ পরীক্ষার ক্রস চেক করার অনুমতি চান পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।

পরে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে। পরদিন তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের নির্দেশে হাফিজুর রহমান বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার রয়েছেন। কুমিল্লার আদালতে হাজির করার আগে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে হাফিজুরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেটি তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার সঙ্গে ম্যাচ করে দেখা হবে।

হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে সিগন্যাল ইউনিটে কর্মরত ছিলেন বলে শনাক্ত করেন তনুর বাবা।