রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে বিবেচনায় আসবে না ধর্ষণ মামলা

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১৩:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে ধর্ষণ মামলা বিবেচনায়ই আসবে না। এ সংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ কথা জানিয়েছেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকার যে কমিটি করেছে, সে কমিটির আজকে প্রথম মিটিং ছিল। রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে সেখানে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনো রেপ কেস (ধর্ষণ মামলা) বিবেচনায় আসবে না। কোনো ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের বিবেচনার বিষয়টি তালিকাতেই আসবে না। এটা আমাদের আজকের সিদ্ধান্ত।

এর আগে গত ৬ মে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, জেলা পর্যায়ে যে কমিটি আমরা করে দিয়েছিলাম হেডেড বাই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, এডিএম, এসপি, পিপি এবং আরও একজন প্রতিনিধি আছে। সেই কমিটি প্রজ্ঞাপন দিয়ে জনসাধারণকে জানিয়েছে, যদি কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভুয়া বা মিথ্যা মামলা হয়ে থাকে, তবে নির্দিষ্ট ফরমে উইথ আইদার চার্জশিট, এফআইআর ও এজাহারসহ আবেদন করবে।

তিনি সেদিন আরও বলেছিলেন, চার্জশিট হয়ে থাকলে চার্জশিটসহ কোন আদালতে মামলা ইত্যাদি তথ্য উল্লেখ করতে হবে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে যদি সত্যিকারভাবে সেই শ্রেণিভুক্ত মামলা হয়ে থাকে তখন সেগুলো প্রত্যাহারের জন্য কমিটি সুপারিশ করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সুপারিশগুলো প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসবে। আমরা এর উপরে কোনো আইনি ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে নেবো না। আমরা এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। সেখানে আইনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কমিটি আছে, তারা ভেটিং করে প্রত্যাহারের উপযুক্ত মামলাগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠালে আমরা সিআরপিসির ৪৯৪ অনুসারে সেগুলো প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেবো।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় বা হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেসব ভুয়া গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সময়ে, সেই মামলাগুলোর বিষয়ে আমরা আবার একটি পত্র দিয়েছিলাম দায়িত্ব গ্রহণের পরে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে কিছু কিছু মামলা, কিছু শ্রেণির মামলা অন্তর্ভুক্ত করা ছিল না তখন। যেমন হত্যা মামলা, অস্ত্র মামলা, নারী নির্যাতন, মাদক পাচার, মানব পাচার- এরকম কিছু মামলা আওতাভুক্ত করা ছিল না তখন।

তিনি বলেন, আমরা পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার পরে বিবেচনা করেছি যে আমাদের বিরুদ্ধেও অনেক অস্ত্র মামলা, হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এমনকি দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও হত্যা মামলা ছিল, আমার জানামতে অন্তত দুই-তিনটি, যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায়। চৌদ্দগ্রামের মামলাসহ আমার বিরুদ্ধেও একই মামলাগুলো ছিল। অস্ত্র মামলাও ছিল। আমাদের অনেক নেতার বিরুদ্ধে মাদক মামলা দেওয়া হয়েছিল, নারী নির্যাতনসহ যে কোনোভাবে যেন আটক রাখা যায় সেই মামলাগুলো দেওয়া হয়েছিল।