পেঁয়াজ-রসুনের পচন রোধে বসছে ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন: কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ ও রসুনের সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে এবং পচনজনিত অপচয় রোধে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পেঁয়াজ ও রসুন অধিক উৎপাদনশীল জেলাগুলোতে প্রকল্পের আওতায় মোট ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ তথ্য জানান।

জাতীয় সংসদের এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। অধিবেশনে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত উৎপাদন হলেও সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়। এই সমস্যা সমাধানে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর একটি আধুনিক সংরক্ষণ প্রকল্প প্রণয়ন করেছে, যা বর্তমানে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায় শুধু সঠিক সংরক্ষণের অভাবে। তবে নতুন এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির মাধ্যমে পেঁয়াজ ও রসুন ৮ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব। এতে অপচয়ের হার মাত্র ২ থেকে ৪ শতাংশে নেমে আসবে। এই অপচয়টুকু রোধ করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ পেঁয়াজ উৎপাদনে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং বাইরে থেকে আমদানির প্রয়োজন হবে না।

রাজবাড়ী জেলাকে পেঁয়াজ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে পাংশা উপজেলায় ৫০৫টি, কালুখালীতে ২৬০টি এবং বালিয়াকান্দিতে ৪৯৫টি এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। নতুন প্রকল্প অনুমোদিত হলে রাজবাড়ীর এই তিন উপজেলায় আরও ৮০০ থেকে ১০০০টি মেশিন আগামী সিজনেই স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

উল্লেখ্য, সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ তার প্রশ্নে জানান, সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর দেশে ৬ থেকে ৭ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ নষ্ট হয়। ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি মডেল ঘর তৈরি করে সেখানে ৬০০-৮০০ মণ পেঁয়াজ অনায়াসে সংরক্ষণ করা সম্ভব। কৃষিমন্ত্রী এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করে দ্রুততম সময়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।


আমার বার্তা/এমই