মহাসড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপন করায় পরিবহনে চাঁদাবাজিও কমে আসবে

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই ক্যামেরা স্থাপন করায় পরিবহনে চাঁদাবাজিও কমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় অটো সুপার ফাইন সিস্টেম এআই ক্যামেরা উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে যে চাঁদাবাজি হয় সেটি মালিক পক্ষ বা শ্রমিক পক্ষ যেই হোক ক্যামেরায় রেকর্ড থাকবে। এতে চাঁদাবাজির প্রবণতা কমে আসবে।

এসময় তিনি বলেন, মহাসড়কে কোনো ধরণের থ্রি-হুইলার চলতে দেওয়া হবে না। থ্রি হুইলারগুলো বাজার এবং ফিলিং স্টেশন ও পিডার রোডে চলাচল করবে। নির্দেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে মহাসড়কে ওভারস্পিড, অবৈধ পার্কিং কিংবা উল্টোপথে গাড়ি চলাচলের মতো আইন লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে এআই ক্যামেরা। এরপর গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইলে মামলার তথ্য ও জরিমানার নোটিশ যাবে এবং ঘরে বসেই জরিমানার অর্থ দেওয়া যাবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আদায়ের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু হয়েছে। মহাসড়কের ২৫০ কিলোমিটার এলাকায় স্থাপন করা ১ হাজার ৪২৭টি এআই ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের গতিসীমা লঙ্ঘন, অবৈধ পার্কিং, উল্টো পথে চলাচলসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হবে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট হাইওয়ে মনিটরিং সেন্টার থেকে এ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। হাইওয়ে পুলিশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ক্যামেরাগুলোর মধ্যে রয়েছে বুলেট, পিটিজেড ডোম, লং ভিশন ও এআই চেকপয়েন্ট ক্যামেরা। এগুলো স্থাপনের জন্য ৪৯০টি পোল বসানো হয়েছে।

অটো ফাইন সিস্টেমে কোনো যানবাহন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে তা শনাক্ত হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে। নির্ধারিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকবে।

হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, স্বয়ংক্রিয় এ ব্যবস্থার ফলে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের সময় পুলিশের সঙ্গে জনগণের সরাসরি যোগাযোগ কমবে। এতে আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ার পাশাপাশি দুর্নীতির সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ দ্রুত সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, একটি ডেটা সেন্টার ও পাঁচটি মনিটরিং সেন্টারের মাধ্যমে এআই ক্যামেরাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাটে একটি ডেটা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তর, কাঁচপুর হাইওয়ে থানা, হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপারের কার্যালয়, দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা ও বারআউলিয়া হাইওয়ে থানায় পাঁচটি মনিটরিং সেন্টার রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের ভাষ্য, মহাসড়কে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বাড়ানো, যান চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের দাবি, উপমহাদেশে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় প্রসিকিউশন ব্যবস্থা এই প্রথম চালু হলো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদ।


আমার বার্তা/এমই