সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়তে বাংলাদেশ ও অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির বৈঠক

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

সেমিকন্ডাক্টর খাতের উন্নয়ন, শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির (এএসইউ) সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফোর সিজনস হোটেল সিলিকন ভ্যালিতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদল অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এসব তথ্য জানান।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা-২ কামরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ মো. জাহিদুল ইসলাম। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কাজী মোহাম্মদ জাবেদ ইকবালও অংশ নেন।

অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টের পরিচালক মেঘান গিবসন, ইউনিভার্সিটি ডিজাইন ইনস্টিটিউটের ভাইস চেয়ার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মিনু ইপে এবং অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর ও ইন্ডাস্ট্রি অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য ড. ইব্রাহিম খলিল। ড. মিনু ইপে ভার্চুয়ালি বৈঠকে যুক্ত হন।

বৈঠকে সেমিকন্ডাক্টর, শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এবং শিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ উদ্যোগসহ অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অভিজ্ঞতার বিষয়টি উঠে আসে।

আলোচনায় প্রকৌশল শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, শিল্প ও বিনিয়োগকে যুক্ত করে বাংলাদেশে একটি কার্যকর সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে সেমিকন্ডাক্টর ও মাইক্রোইলেকট্রনিকসের পাঠ্যক্রম, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ, প্রয়োগভিত্তিক গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প খাতের অংশীদারত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো উঠে আসে।

শিক্ষা, বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা আরও গভীর করার সুযোগের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। 

এদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসটিইএম শিক্ষা, শিক্ষক উন্নয়ন এবং উদীয়মান শিল্পের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে শিল্প, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক প্রয়োগের সংযোগ ঘটিয়ে একটি বাস্তবভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর রোডম্যাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বৈঠকে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির ইউনিভার্সিটি ডিজাইন ইনস্টিটিউটের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও আলোচনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার ও শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর নিয়ে কাজ করে।

এই আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর টেকসই পরিকল্পনা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে দক্ষ কর্মসংস্থান, গবেষণা সক্ষমতা, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগে অগ্রগতির লক্ষ্য নিয়েও আলোচনা হয়। এর পাশাপাশি সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরিতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এতে সেমিকন্ডাক্টর শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, গবেষণা, পাঠ্যক্রম ও শিক্ষক উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প খাতের সম্পৃক্ততা এবং উচ্চশিক্ষার রূপান্তরের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

উভয় পক্ষ আলোচনা অব্যাহত রাখা এবং বাস্তবায়নযোগ্য নির্দিষ্ট প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদার চিহ্নিত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। 

অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরবর্তী যোগাযোগে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সহযোগিতা করবে।