উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের বড় দায়িত্ব

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে ইনার সার্কুলার রিং রোডের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে দেশে হামের প্রকোপ ঠেকাতে ৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে বিশেষ ক্যাচ-আপ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী পে-ফিক্সেশনও শুরু হচ্ছে। অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে তিন মাসের বকেয়া পরিশোধের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

একটি দেশের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক সূচকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, আয়-রোজগার ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নও রাষ্ট্রের দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঢাকার যানজট কমাতে সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কর্মজীবী মানুষের আর্থিক স্বস্তিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং শ্রমিক অধিকারকে মৌলিক অধিকারের মর্যাদা দেওয়ার দাবিও সামনে এসেছে। একটি রাষ্ট্রের সংবিধানে যত বেশি নাগরিকের অধিকার ও পরিচয়ের প্রতিফলন ঘটে, রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততাও তত শক্তিশালী হয়। ফলে এসব দাবিকে কেবল বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দাবি হিসেবে না দেখে বৃহত্তর নাগরিক অধিকার ও অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেশের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সালিভানের আমেরিকান পেশাদার ফুটবলে ইতিহাস গড়ার ঘটনায় বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেফতার এবং তাঁর পুরোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও ট্রল চলছে। এসব ঘটনা দেখিয়ে দেয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের অতীত বক্তব্য এখন সহজেই জনআলোচনার অংশ হয়ে উঠছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে প্রচলিত দাতা-গ্রহীতা সম্পর্কের বাইরে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে আগ্রহী। এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর সমাধানও জরুরি।

যশোরের ভবদহ অঞ্চলে বর্ষা শেষ হওয়ার পরও দুই শতাধিক গ্রামের মানুষের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা অব্যাহত থাকার বিষয়টি সেই বাস্তবতাই সামনে আনে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৌশলগত অংশীদারত্বের পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একইভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, সেগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। মদিনার বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হুতিদের ড্রোন হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নিন্দা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের চলমান প্রভাব দেখিয়ে দিচ্ছে, আন্তর্জাতিক সংঘাত এখন আর কোনো দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, ইউরোপের যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিবর্তন বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, উন্নয়নের প্রতিটি উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে মানুষ। যানজট কমাতে সড়ক নির্মাণ, শিশুদের টিকাদান, কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ, নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন-সবকিছুই রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ।

একটি দেশ শুধু বড় প্রকল্প বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে এগিয়ে যায় না। নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা, অধিকার ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের জীবনমান ও অধিকার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।