বদলে যাওয়া হিসাব মেলাতে কৌশলী প্রচারে দলগুলো
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

নির্বাচনে জিততে হলে ভোটারের মন জয় করতেই হবে। এই কাজে নিজেদের আদর্শ-অবস্থান সামনে রেখে কৌশল ঠিক করে দলগুলো। প্রচারে ভিন্নতা ও নতুনত্বেও থাকে নজর। অভ্যুত্থান-পরবর্তী ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনেও তাই নিজেদের মতো করে কৌশল ঠিক করে প্রচার শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি, জামায়াতের ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি।
বিএনপি: মানুষের চাওয়াতেই থাকবে মনোযোগ
পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নামছে বিএনপি। দীর্ঘদিনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগবিহীন এবারের ভোটের মাঠে প্রধান প্রতিপক্ষ সাবেক জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল এনসিপিসহ একাধিক নতুন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের কারণে এই নির্বাচনের সমীকরণও নতুন।
রাজনীতির এই নতুন বিন্যাসে ভোটারদের মনস্তত্ত্ব, প্রতিপক্ষের ভোট-ব্যাংক এবং নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক প্রত্যাশা—সবকিছু হিসাব কষেই এবার প্রচারের কৌশল সাজিয়েছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকেরা বলেছেন, এবার নির্বাচনী প্রচারে বিএনপি মানুষের প্রয়োজনকেই অধিক গুরুত্ব দেবে।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘প্রচারে আমাদের ফোকাসটা হচ্ছে–মানুষের যেটা দরকার...। আমরা যে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছি, আরও সুযোগ-সুবিধার কথা বলেছি, সেটা মানুষের কাছে পৌঁছানো।’
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পরদিন ২২ জানুয়ারি থেকেই নির্বাচনী প্রচারে নামতে পারবে দলগুলো। প্রচার চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সময় এবং প্রয়োজনের সঙ্গে মিল রেখে বিএনপিও যে বদলে গেছে, সেটা দলের নির্বাচনী প্রচারেও প্রতিফলিত হবে। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বিএনপির পরিকল্পনা এবং কর্মকাণ্ডে এরই মধ্যে বিষয়টি উঠে এসেছে। নির্বাচনী ইশতেহারও সাজানো হয়েছে এভাবেই। সেখানে সামনে আনা হচ্ছে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান ও নাগরিক অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে নেই। বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ এবার জামায়াতে ইসলামী। দলটি ধর্মভিত্তিক আবেগসহ নানা বিষয় ব্যবহার করছে। এটি মোকাবিলায় একাত্তরকে হাতিয়ার করেছে বিএনপি। একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা ভোটারদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। এর বাইরে জীবিকা, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্নগুলোকে সামনে রেখে ভোটারদের টানার চেষ্টা করছে বিএনপি। বিশেষ করে শহর ও মফস্বলে তরুণ ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচার বাড়ানো হয়েছে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে বিএনপির খানিকটা ঘাটতিও আছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখা একাধিক নেতা আজকের পত্রিকাকে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি বিজয়ী হবে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে পরিবেশ দরকার, তা পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। পরিবেশ নষ্ট করার জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীদের এই তৎপরতা সামাল দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ ধরে রাখতে হলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এটিই এখন দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
রাজধানীতে গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় প্রত্যেক মানুষের সামনে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে, যেখানে এই গণতন্ত্রের পথ যেটি তৈরি হয়েছে, সেটি যাতে বাধাগ্রস্ত হয়। দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ধৈর্য ধারণ করি, আমরা সজাগ থাকি যাতে আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রা যা শুরু হয়েছে, তাতে যাতে ব্যাঘাত করতে না পারে।’
দলীয় সূত্র জানায়, এনসিপি ও নতুন দলগুলো বিএনপির জন্য ভিন্নধর্মী চ্যালেঞ্জ। এই দলগুলো দুর্নীতিবিরোধী ও ‘পুরোনো রাজনীতির বাইরে’ থাকার বার্তা দিয়ে তরুণদের আকৃষ্ট করছে। বিএনপি সেই জায়গায় নিজেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতাকে তুলে ধরছে। অধিক গুরুত্ব দিয়ে তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। ৪ কোটি তরুণ ভোটারের প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখে তাঁদের জন্য নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থানসহ নানা প্রতিশ্রুতি রাখছে বিএনপি। একই সঙ্গে ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ ভোটারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং ৬ কোটির বেশি নারী ভোটারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানীসহ সময়োপযোগী সুবিধা সন্নিবেশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের কর্মপরিবেশ ও নানা সেক্টরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে দলটি।
আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু না হলেও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল রোববার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ খেতাব দিয়ে তাঁদের ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামী: তরুণদের ভোট টানতে অনলাইন প্রচারে জোর
দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় রাজনৈতিক চাপে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনকে তাদের অস্তিত্ব পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি জনপ্রিয়তা প্রমাণের পরীক্ষা হিসেবে নিয়েছে। দলটি তাই বেশ হিসাব কষেই সাজিয়েছে তাদের নির্বাচনী প্রচার কৌশল। ভোটের প্রচারে জুলাইয়ের চেতনাকে প্রাধান্য দেবে তারা। আর ভোটের মাঠে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিকে মোকাবিলায় অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার চালাবে দলটি। একই সঙ্গে তৃণমূলে ছোট ছোট কর্মসূচিকে ভোটের প্রচারণার মধ্যে রাখছে তারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২২ জানুয়ারি রাজধানী থেকে প্রচার শুরু করবে জামায়াত। ২৩ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং রংপুরে টানা তিনটি জনসভা করবেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। ২৪ জানুয়ারি জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণের বার্তা সারা দেশে পৌঁছে দিতে চান বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
জামায়াতের এবারের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম বড় কৌশল হতে যাচ্ছে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর দেওয়া। শুধু পোস্টার-ব্যানারে সীমাবদ্ধ না থেকে ফেসবুক, ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও এবং গ্রাফিকসের মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে জামায়াত। কয়েক মাস আগে থেকেই দলটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত এসব কনটেন্ট আপলোড করা হচ্ছে।
জানা যায়, নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে গ্রাম-মহল্লায় নিয়মিত উঠান সভা ও বৈঠক করছে জামায়াত। এই ‘উঠান বৈঠক’ কৌশলটি জামায়াতের পুরোনো ও পরীক্ষিত কৌশল। বিশেষ করে তৃণমূলের ভোটের চিত্র পালটে দিতে পারে এ কৌশল। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিটকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।
নির্বাচনে প্রচারের কাজে জামায়াতের মহিলা বিভাগ বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একটি সূত্র জানায়, কোনো শোরগোল ছাড়াই তারা প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছে। এতে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি ওই সূত্রের। নারী ভোটারদের মনস্তত্ব বুঝে তাদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার দায়িত্ব মহিলা বিভাগের।
জনগণের মতামত নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার চূড়ান্ত করার মধ্য দিয়ে জামায়াত নিজেদের আধুনিক ও জনমুখী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। এ ছাড়াও তাদের পরিকল্পিত নির্বাচনী ইশতেহারে অগ্রাধিকার পাচ্ছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান। পাশাপাশি নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার এবং শিক্ষা, চিকিৎসা খাত সংস্কারসহ কিছু বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত।
জাতীয় নাগরিক পার্টি: বহুমাত্রিক প্রচারে গুরুত্ব পাবে স্থানীয় বাস্তবতা
নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নিজেদের নির্বাচনী প্রচারের রূপরেখা এরই মধ্যে চূড়ান্ত করছে দলটি। দলের নেতারা জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে তাঁরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে এবং দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে একযোগে প্রচারণা চালাবেন। মাঠপর্যায়ের কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জোরালো প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে এনসিপির। দলীয় প্রতীক শাপলা কলিকে কেন্দ্র করে ভিন্নধর্মী প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চায় দলটি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বলেন, ‘আমরা চাই এবারের নির্বাচন শুধু প্রার্থী নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকুক। গণভোট আমাদের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই গণভোট এবং প্রার্থীদের প্রচার একসঙ্গেই চালানো হবে।’
মনিরা শারমিন জানান, এবারের নির্বাচনে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট চাইতে ইতিমধ্যে তাঁদের ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। গণভোটের ক্যারাভান বা গাড়ি ঢাকার বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করছে। সারা দেশের যেসব আসনে এনসিপির প্রার্থী থাকবেন, তাঁরা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ভোট চাইবেন। আর যে আসনগুলোতে এনসিপির প্রার্থী থাকবেন না, এমন আসনগুলোতে ‘গণভোট অ্যাম্বাসেডর’ বা গণভোট প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। এই অ্যাম্বাসেডররা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবেন। একই সঙ্গে দলীয় বার্তা, সংস্কার ভাবনা এবং রাজনৈতিক অবস্থান ভোটারদের সামনে তুলে ধরবেন।
দলীয় সূত্র জানায়, এনসিপির ব্যালট প্রতীক ‘শাপলা কলি’কে ঘিরে একটি থিম সং প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। সব ঠিক থাকলে ২০ জানুয়ারির মধ্যে এই থিম সং প্রকাশ পেতে পারে। নির্বাচনী প্রচারের বিভিন্ন পর্যায়ে গানটি ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পথসভা ও সমাবেশে এই থিম সং বাজানো হবে বলে জানান দলটির নেতারা। এতে করে সর্বস্তরের ভোটারদের আকৃষ্ট করা সহজ হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
এবারের নির্বাচনে এনসিপির ৩০ জন প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রচারণা চালানো হবে। দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব প্রার্থীর জন্য একটি অভিন্ন বার্তা থাকলেও স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী আলাদা আলাদা ইস্যু তুলে ধরার সুযোগ থাকবে। মনিরা শারমিন বলেন, ‘আমরা চাই না, সব জায়গায় একই ধরনের কথা বলা হোক। মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, এলাকার সংকট—এসব বিষয় নিয়েও প্রার্থীরা কথা বলবেন।’
নির্বাচনী প্রচারের আনুষ্ঠানিক সূচনা কোথা থেকে হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে দলের ভেতরে। দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, জুলাই আন্দোলনে রংপুরে নিহত আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচার শুরু করার একটি প্রস্তাব রয়েছে। সেখান থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এনসিপির নেতাদের মতে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে দলটির আন্দোলন ও রাজনৈতিক অবস্থানের একটি প্রতীকী বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে।
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, দলের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলা সফর করবেন। এসব সফরে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে। একই সঙ্গে ভোটারদের শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পথসভা, ছোট সমাবেশ, মতবিনিময় সভা এবং ঘরে ঘরে প্রচারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মনিরা শারমিন জানান, নির্বাচনী প্রচারের আগে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রচার কৌশল চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারের জন্য ১৩ জানুয়ারি ‘ক্যাম্পেইনবিষয়ক উপকমিটি’ গঠন করেছে এনসিপি। এই উপকমিটির প্রধান লুৎফর রহমান এবং সেক্রেটারি আবু সাঈদ লিয়ন। এ ছাড়া এই উপকমিটিতে ১২ জন সদস্য রয়েছেন।
ক্যাম্পেইনবিষয়ক উপকমিটির প্রধান লুৎফর রহমান বলেন, ২৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু হতে পারে। এটি নিয়ে আলোচনা চলছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার সূচি ঘোষণা করা হবে।
এনসিপির নেতারা জানান, তাঁদের নির্বাচনী প্রচার হবে বহুমাত্রিক। মাঠের প্রচারের পাশাপাশি ডিজিটাল ক্যাম্পেইনেও দলটি সমান গুরুত্ব দেবে। ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স এবং টিকটকে ভিডিও কনটেন্ট, গ্রাফিকস ও লাইভ কার্যক্রম চালানো হবে।
লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু ভোট চাওয়া নয়। আমরা ভোটারদের বোঝাতে চাই, গণভোট কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে কেন হ্যাঁ ভোট দেওয়া প্রয়োজন, শাপলা কলি প্রতীক কী বার্তা বহন করে।’ তাঁর মতে, তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া এই প্রচার সফল হবে না। তাই তরুণদের সামনে রেখে কনটেন্ট ও কর্মসূচি সাজানো হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, নারী ভোটার ও প্রথমবার ভোট দেওয়া তরুণদের জন্য আলাদা কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। প্রবাসী ভোটারদের কাছে দলের বার্তা পৌঁছাতে অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনে এনসিপি প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের প্রচার কৌশল নিয়ে মাঠে নামতে চায়। দলটির নেতারা চান, তাঁরা যেমন শাপলা কলি প্রতীক ছাড়াও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইবেন, তেমনি জোটভুক্ত অন্য দলগুলোও এনসিপির প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে অংশ নেবেন এবং তাঁদের হয়ে কাজ করবেন।
এ বিষয়ে মনিরা শারমিন বলেন, এনসিপির প্রার্থীরা শাপলা কলির পক্ষে ভোট চাইবেন। আর যেখানে শাপলা কলির প্রার্থী নেই, সেখানে জোটের অন্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন। সূত্র: আজকের পত্রিকা
