আমরা আছি সংসদে, মামুনুল-পাটওয়ারীরা আছেন রাজপথে: নাহিদ 

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

দেশে জুলাই সনদ আর গণভোট বাস্তবায়নে প্রয়োজনে সংসদ আর রাজপথ একাকার হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আল্লামা মামুনুল হককে ষড়যন্ত্র করে সংসদে যাওয়া ঠেকানো গেছে। কিন্তু রাজপথে তাকে থামানো সম্ভব নয়। আমরা সংসদে আছি জুলাই সনদ আর গণভোট বাস্তবায়নের কথা বলার জন্য। আর রাজপথে আছেন মামুনুল হক আর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। যদি প্রয়োজন হয়, রাজপথ আর সংসদ একাকার হয়ে যাবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখনও রয়ে সয়ে কথা বলছি। কিন্তু দেশের মানুষ ভালো নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, হাম সংকট; বিরোধীদল সর্বত্র দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে। সরকারকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে। এসব নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাইনি। কিন্তু সরকার বারবার কথার বরখেলাপ করছে।’

জনগণ ফ্যাসিবাদকে প্রশ্রয় দেবে না উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম জানান, ‘সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দলীয়করণ করছে, প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করছে, গুন্ডা বাহিনী লেলিয়ে দিচ্ছে। বিচারবিভাগকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ, দেশপ্রেমিক মানুষ এই নতুন করে জেগে ওঠা স্বৈরতন্ত্র, পুরোনো বন্দোবস্ত, পুরোনো সংস্কৃতিকে যারা টিকিয়ে রাখতে চায়, তাদেরকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না।’ 

এসময় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে। যতক্ষণ না সরকার গণভোটের গণরায় মেনে নেবে ততক্ষণ আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো। যদি (সরকার) সংখ্যাগরিষ্ঠতা, দুই তৃতীয়াংশ আসন, আর গায়ের জোরে গণরায়কে প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তাদের পরিণতিও পুরোনো ফ্যাসিবাদীদের কায়দায় হবে।’

গণসমাবেশে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এগারো দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।