এক মসজিদে ২ বার জুমার নামাজ পড়া যাবে?
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

শুক্রবার মুসলমানরা একত্রে সমবেত হয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজের আগে খুতবার মাধ্যমে আল্লাহ, ইসলাম ও মানবজীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা শোনা হয়, যা ঈমানকে মজবুত করে এবং জীবন পরিচালনায় শক্তি জোগায়।
ইসলামের দৃষ্টিতে একজন মুমিনের পুরো জীবনই ইবাদত। যদিও আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা সময় বাধ্যতামূলক নয়, তবুও কিছু সময় ও দিনকে আল্লাহ বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। শুক্রবার তেমনই একটি দিন।
হাদিস থেকে জানা যায়, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে উত্তম দিন হলো শুক্রবার। এ দিন মুসলমানরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক আল্লাহর ইবাদত করেন এবং নিজেদের ঈমান ও আনুগত্য নতুন করে দৃঢ় করেন।
পুরুষদের জন্য জুমার নামাজ আদায় করা ফরজ। হাদিসে এসেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সংঘটিত সগীরা গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যদি কেউ কবিরা গুনাহে লিপ্ত না হয়।
তাই কাজ, পড়াশোনা বা দুনিয়াবি ব্যস্ততার অজুহাতে জুমার নামাজ অবহেলা করা একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পরপর তিনবার কোনো বৈধ কারণ ছাড়া জুমা ছেড়ে দিলে মানুষ হেদায়েতের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এক মসজিদে একাধিকবার জুমার নামাজ পড়া যাবে?
শরীয়তের দৃষ্টিতে একই মসজিদে একাধিকবার জুমার নামাজ আদায় করা মাকরূহ; তাই এই পদ্ধতিটি বর্জন করা আবশ্যক। যদি মসজিদে সব মানুষের জায়গা না হওয়ার কারণে দ্বিতীয়বার জামাত করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে এর উত্তম বিকল্প পদ্ধতি হলো—মসজিদ ছাড়া অন্য কোনো বড় এবং খোলা ময়দানে নামাজ আদায় করা; যাতে সবাই একসাথে নামাজ পড়তে পারেন।
উল্লেখ্য, যদি অনেক মানুষ সমবেত হওয়ার মতো বড় কোনো জায়গা কোনোভাবেই পাওয়া না যায়, তবে অপারগতার কারণে একাধিক জামাত করা যেতে পারে।
শরীয়তের নীতিমালা অনুযায়ী এমন মসজিদে এক নামাজের দুটি জামাত করাকে 'মাকরূহ' গণ্য করা হয়েছে, যেখানে নির্ধারিত ইমাম ও মুয়াজ্জিন রয়েছেন এবং যেখানকার নির্দিষ্ট মুসল্লি রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর আমলও এমন ছিল যে, যখন তারা মসজিদে আসতেন এবং দেখতেন জামাত শেষ হয়ে গেছে, তখন তারা অন্য কোনো মসজিদে গিয়ে জামাতে শরিক হতেন অথবা একাকী নামাজ আদায় করে নিতেন; কিন্তু ওই একই মসজিদে দ্বিতীয়বার জামাত করতেন না।
এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) দুই দলের মধ্যে আপস-মীমাংসার জন্য গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখলেন জামাত শেষ হয়ে গেছে। তখন তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে (ঘরে) জামাত আদায় করেছিলেন। যদি মসজিদে ফরজ নামাজের দ্বিতীয় জামাত কোনো প্রকার অপছন্দনীয়তা (মাকরূহ) ছাড়া জায়েজ হতো, তবে রাসূলুল্লাহ (সা.) বৈধতা বোঝানোর জন্য সেখানেই দ্বিতীয়বার জামাত করতেন। এই কারণেই ফকিহগণ একই মসজিদে দ্বিতীয় জামাত করার অনুমতি দেন না।
এছাড়া, দ্বিতীয় জামাত করার ফলে প্রথম জামাতের গুরুত্ব হারিয়ে যায়। মূল গুরুত্ব তো প্রথম জামাতেরই। অনেক মানুষ মনে করে প্রথম জামাত পেলে ভালো, নয়তো পরে দ্বিতীয় জামাত করে নেব—এই মানসিকতা ও পদ্ধতিটি ভুল।
