বিসিক এর জিএম/পিডি মোঃ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে যতসব অভিযোগ
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:০৮ | অনলাইন সংস্করণ
মোস্তফা সারোয়ার

সরকারের প্রচলিত নিয়ম নীতি ভংগ করে ক্ষমতার অপব্যবহার ও এখতিয়ার বহির্ভুত কাজ করার অভিযোগ উঠেছে বিসিকের প্রকল্প পরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। বর্তমানে কর্মরত বিসিকের ক্যামিকেল শিল্প পার্ক, মুন্সীগন্জ শীর্ষক প্রকল্পের পিডি।
আওয়ামী দোসর হাফিজুর রহমানসহ বেআইনী কাজের সাথে যুক্তদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্হা না নিয়ে বিসিক চেয়ারম্যান তাদেরকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে পুরস্কৃত করে চলেছেন।
যার কারণে প্রতিটি ক্ষেত্রে আইন বহির্ভূত কাজের মাত্রা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।
সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে ৫০ কোটি টাকার অধিক ব্যয় সম্বলিত প্রকল্পের পিডি প্রকল্পের পূর্ণকালীন পিডি হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সার্বক্ষণিক প্রকল্প এলাকায় অবস্হান করে প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি কাজে সুষ্ঠু ও গতিশীলতা বজায় রাখবেন।
সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী একজন পূর্ণকালীন পিডি হিসাবে হাফিজের কর্মস্হল বিসিক ক্যামিকেল শিল্প পার্ক মুন্সিগঞ্জ প্রকল্প এলাকায়। অথচ সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে ফুড টেকনোলজিতে এমএসসি ডিগ্রীধারী হাফিজুর রহমানকে বিসিকের মহাব্যবস্হাপক, দক্ষতা ও প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব প্রদান করে তাকে বিসিক প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত রেখেছেন।
এটি সরকারী নির্দেশনার সাথে সাংঘর্ষিক এবং বিসিক কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ।
প্রকল্প পরিচালক সারাক্ষণ বিসিক প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত থাকলে প্রকল্পের কাজ দেখাশুনা করার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।
বিসিকের আওতায় বাস্তবায়নাধীন অন্যান্য প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালগণ শুধুমাত্র প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলেও হাফিজুর রহমান এর বেলায় ভিন্নধর্মী আচরণ করছেন বিসিক চেয়ারম্যান।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা গেছে হাফিজুর রহমান বিসিক ভবনের এগারতলায় অবস্হিত মহাব্যবস্হাপক, দক্ষতা ও প্রযুক্তির দপ্তরে সাবেক ডিবি প্রধান হারুন ষ্টাইলে খাবার হোটেল চালু করেছেন। সরকারী দপ্তরে এ জাতীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না থাকা স্বত্তেও কোন ব্যবস্হা নিচ্ছে না বিসিক কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ২৬ মার্চ স্বাধিনতা দিবসের আপ্যায়নে ৩৫০/- টাকার প্যাকেজের খাবারের বিল বাড়িয়ে ৬৫০/- টাকা করে, প্রায় ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে। তিনি বাংলা নববর্ষে ( ১ লা বৈশাখে)শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব,অতিরিক্ত সচিব,যুগ্ম সচিব এবং বিসিক চেয়ারম্যানকে লক্ষাধিক টাকার ইলিশ মাছ উপহার দিয়েছেন বলে গুঞ্জন চলছে। এমনকি তিনি নিজেই দম্ভভরে একথা প্রকাশ করেছেন। এমন প্রচারণায় শিল্প মন্ত্রী, শিল্প সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও বিসিক চেয়ারম্যানের নীতি আদর্শ প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বিসিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ বিষয়টি তদন্ত করার জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য হাফিজুর রহমানের সাথে একাধিক বার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেনি ।
