বিপিসি চেয়ারম্যানের সদ্য বদলীকৃত একান্ত সচিব ও তার স্ত্রীর শত কোটি টাকার সম্পদ
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ১০:২৫ | অনলাইন সংস্করণ
মোস্তফা সারোয়ার

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো: আহম্মদুল্লাহকে বিপিসি থেকে বদলী করা হয়েছে চলতি মাসের ১৩ তারিখে। বর্তমানে তার কর্মস্থল ঢাকার মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের লিয়াজো অফিস । অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে তাকে বদলী করা হয় । তবে তার বিরুদ্বে কোন তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বিপিসি কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। শুধু মাত্র একটি বদলীর আদেশে সব কিছু থামিয়ে দেয়া হয় । অথচ মাত্র সাত বছরের চাকরি জীবনে তিনি মালিক বনে গেছে শত কোটি টাকার। শুধু তিনিই নয়, সাথে সাথে অগাধ সম্পত্তির মালিক হয়েছেন তার স্ত্রীও।
২০১৯ সালে বিপিসি'র উপ-ব্যবস্থাপক পদে যোগ দেন মো. আহম্মদুল্লাহ্। তবে তার নিয়োগ নিয়েও রয়েছে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ। জানা গেছে প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি চাকরি পায় বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের আশীর্বাদে। তার একমাত্র মেয়ের গৃহশিক্ষক ছিলেন এই আহম্মদুল্লাহ। সেই সম্পর্কের সুবাদের পাশাপাশি তার ছিল রাজনৈতিক পরিচয়ও , এই দুটো মিলিয়ে বিপিসিতে চাকরি বাগিয়ে নেন আহম্মদুল্লাহ্।
এদিকে বিপিসিতে নিয়োগের পর বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তবে বিপিসিতে তার উত্থানের পেছনে বড় ভুমিকা পালন করেছে তার রাজনৈতিক পরিচয়। শ্রেফ রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার দিবাকর কাঠি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিনি চাকরি নেয় ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে । চাকরি পেতে তিনি জমা দেন আওয়ামী লীগের দলীয় একটি প্রত্যয়ন পত্র। সেখানে ঝালকাঠির ১০নং নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সেলিম শাহ তাকে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তার পরিবারের সদস্যরাও আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী ও রাজনীতিতে জড়িত বলে সেই প্রত্যায়নপত্রে বলা হয়েছে । এই রাজনৈতিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে বিপিসিতে প্রবেশের পর তিনি দানবের মতো ক্ষমতা অর্জন করেন।
এদিকে আবার তার শ্বশুর ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত প্রভাবশালী নেতা কালো বিড়ালখ্যাত রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পিএস। সেই পথে হাটা শুরু করেন তিনিও। বিপিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারীর পদটি সহকারী ব্যবস্থাপক (৯ম গ্রেড) সমমানের। কিন্তু বিপিসির প্রবিধানমালা পাত্তা না দিয়ে উপব্যবস্থাপক (৬ষ্ঠ গ্রেড) হয়েও এই পদটি দখলে রেখেছেন বদলী হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত।
পিএস পদটি ব্যবহার করে আহম্মদুল্লাহ্ গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। আওয়ামী লীগ এবং নিজের প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন মহলকে ম্যানেজ করে নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।
২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) মো. আবুল কালাম আজাদ অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একটি চিঠি দেন। ওই চিঠিতে ‘ওটি ইস্টার্ন কেরিয়ার-২’ নামের একটি শ্যালো ড্রাফট ট্যাংকারকে চার বছরের জন্য ‘ওটি ইস্টার্ন কেরিয়ার’ নামে জাহাজটির বিপরীতে প্রতিস্থাপনের জন্য বিপিসির সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চিঠিটির অনুলিপি দেওয়া হয় জাহাজ মালিক ইস্টার্ন বাল্ক কেরিয়ার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী এবং বিপিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিবকে।
ইস্টার্ন বাল্ক কেরিয়ার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী হলেন চট্টগ্রামভিত্তিক বাশার গ্রুপ অব কোম্পানির মালিক আবুল বশর আবু। অন্যদিকে ওই সময়ে বিপিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব (পিএস) ছিলেন মো. আহম্মদুল্লাহ।
জাহাজটি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে আবুল বশর আবুর সঙ্গে মো. আহম্মদুল্লাহর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া না গেলেও ওই চিঠির ২০ দিন আগে ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দুজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সেদিন একটা সাফ কবলা দলিল নং-১০১৯৭ সম্পাদিত হয়। এ দলিলের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জ (দক্ষিণ) থানার কোন্ডা ইউনিয়নের আইন্তা মৌজাস্থ বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পের সাড়ে তিন কাঠার (পাঁচ দশমিক সাত শতাংশ) ২৮৭নং প্লটটি নুসরাত জেবিন সিনথী নামের একজনকে হস্তান্তর করেন আবুল বশর। দলিলে মূল্য দেখানো হয় ৩০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। নুসরাত জেবিন সিনথী বিপিসি চেয়ারম্যানের সাবেক পিএস আহম্মদুল্লাহর স্ত্রী।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পের ২৮৭নং প্লট পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ওই প্লটে ৮ তলা ভবনের পুরোটাই ছাদ পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে। কিন্তু নির্মাণাধীন ওই ভবনের তিন তলায় সাঁটানো সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, “ক্রয় সূত্রে এই জমির মালিক- বাশার গ্রুপ অব কোম্পানি, আলহাজ আবুল বশর (আবু)”।
কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের (দক্ষিণ) সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস সূত্রে জানা গেছে, নুসরাত জেবিন সিনথীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তার নামে ওই জমির নামজারি খতিয়ান (নং-২২৪৩) খোলা হয়।
কথা হলে পাশের একটি ভবনের ম্যানেজারের সাথে ‘এখানে বর্তমানে প্রতি কাঠা জমি ৪২ থেকে ৪৭ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’ সে হিসাবে সাড়ে তিন কাঠা প্লটটির শুধু জমির বর্তমান মূল্য দেড় কোটি টাকার বেশি।
প্লটটির সরকারি খতিয়ানে নুসরাত জেবিন সিনথীর নাম থাকলেও মূল জায়গাতে আবুল বশর (আবু)’র নামে সাইনবোর্ড ঝুলানো থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—আট তলা ভবনটির মালিক কে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ওই জমির নামজারি আবেদনে দেওয়া নুসরাত জেবিন সিনথীর মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
দীর্ঘদিন চেয়ারম্যানের পিএস থাকার সুবাদে বিপিসিকে দুর্নীতির আতুর ঘর বানিয়ে এভাবেই অনৈতিকভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ সংগ্রহ করেছেন মো: আহম্মদুল্লাহ। অভিযোগ রয়েছে তিনি কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ কিনে গোপন লকারে মজুদ করেছেন। রাজধানী ঢাকার মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, জমি ও গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি কিনেছেন। মিরপুরে দুটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে তার নামে। কোটি কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার হয়েছেন। স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ।
তার প্রভাব ও ক্ষমতার কাছে হার মেনেছেন খোদ বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান এবিএম আজাদও। বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর বিপিসি চেয়ারম্যানের পিএস পদ থেকে ছড়িয়ে চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয়ের হিসাব বিভাগে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু একদিন পরই সেই অফিস আদেশ বাতিল করিয়ে মো. আহম্মদুল্লাহ্ স্বপদে ফিরে যান। নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পর পর বদলির বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ৭ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি একই পদে ছিলেন এই আহম্মদুল্লাহ।
এছাড়া বিপিসির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের জন্য বরাদ্দ হওয়া গাড়ি (জীপ ও কার) তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। সেই সময়ে তিনি নিজে প্রাথমিকভাবে গাড়ির প্রারাধিকারভুক্ত কর্মকর্তা না হওয়া সত্ত্বেও, তার এই ব্যবহার নিয়ে বিপিসির অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল । কথিত আছে, মো. আহম্মদুল্লাহ্ বিপিসিতে যা চেয়েছে তাই হয়েছে। তিনি এতই ভয়ঙ্কর যে, তার অনিয়মের বিষয়ে মুখ খোলার চেষ্টা করলে বদলি সহ চাকরি থেকেই বিতাড়িত হতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারীদের অনেকের।
অভিযোগ রয়েছে, নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে আহম্মদুল্লাহ্ জ্বালানী সেক্টরে বরিশালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পছন্দের জায়গায় পদায়ন করছেন। বরিশাল অঞ্চলের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে তিনি বিপিসি চেয়ারম্যান, পরিচালক এবং ঢাকার অফিস-রেস্ট হাউসে পদায়ন করে রেখেছেন।
এছাড়াও, বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউস, লিয়াজো অফিস এবং বিপিসির অধীনস্থ কোম্পানির ডিপোতে আত্মীয়-স্বজনসহ প্রতিবেশীদের চাকরি দিয়ে সবকিছু তার তত্ত্বাবধানে রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার ফুপাতো ভাই মো. মিরাজকে পদ্মা অয়েলের বরিশাল বার্জ ডিপোতে চাকরি দেয়ার।
বিপিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. আহম্মদুল্লাহ্ ঢাকা লিয়াজো অফিসে অঘোষিত ক্যাশিয়ার হিসেবে রেখেছেন বিপিসির আরেক কর্মকর্তা, উপ-ব্যবস্থাপক (ডিএলও) মো. আশিক শাহরিয়ারকে। আশিক শাহরিয়ারও তার নিজ জেলা বরিশালের বাসিন্দা স্বত্বেও, একই নিয়োগ ও নিয়মে তিনি ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে বিপিসিতে যোগদান করেন।
যোগ্যতার অভাবে এসিএআর-এ কম নম্বর পেয়েছিলেন আশিক শাহরিয়ার। বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ তাকে পদোন্নতি দিতে চাইলেও, দেননি। কিন্তু পিএস মো. আহম্মদুল্লাহ্ নিজের ক্ষমতায় ৩ বছর ১৭ দিনে পদোন্নতির ব্যবস্থা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আশিক শাহরিয়ারকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিপো ও পার্টির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন আহম্মদুল্লাহ্। পাশাপাশি তিনি বিপিসি টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য এবং প্রোমোশন বাণিজ্য এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন।
বিপিসি চেয়ারম্যানের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে অর্থ আদায় করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিনের। তিনি রেস্ট হাউজে নামে-বেনামে ভুয়া বিল বানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে বিল উত্তলন করে অর্থ ভাগাভাগি করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মো. আহম্মদুল্লাহ্ নিজের প্রভাব খাটিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীকে বিটুমিন, ক্রুড অয়েল এবং ডিজেলের মতো পণ্য আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দেয়ার। তার বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি উর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করে পদোন্নতির জন্য মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে ছাড়পত্র নেন।
এছাড়া বিপিসির অধীনস্ত কোম্পানির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের মাসোয়ারা নিয়ে পদোন্নতি, বদলি ও বিভিন্ন তদন্ত রিপোর্টে জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানি সমূহের বার্ষিক ৫ শতাংশ মুনাফার অনুমোদন এবং কোম্পানির নিয়োগ বিধির তফসিলের তৃতীয় শ্রেণীর বিষয় পরিবর্তনের জন্যও মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। বিপিসির অধীনস্ত কোম্পানি সমূহের ডিপো ইনচার্জদের বদলির হুমকি দিয়ে মাসভিত্তিক মাসোহারা গ্রহণ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আপ্যায়ন বিল, টিএ/ডিও বিল, জ্বালানি বিল বাবদ বিপিসি থেকে নিয়েছেন ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫১ টাকা।
এছাড়াও, দৈনিক ভিত্তিতে চাকরি দেওয়ার জন্য বিপিসির সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল আহসানকে খুশি করার নামে দুইটি এসির দাম বাবদ এক চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করার অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিপিসির সকল নিয়োগ-বাণিজ্যের মূল হোতা ছিলেন এই আহাম্মদুল্লাহ।
অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বার্তা বাহক পদে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে বিপিসিতে নিয়োগ দেন শাওন নামের একজনকে। পরবর্তীতে এটি জানাজানি হয়ে গেলে তৎকালীন পরিচালক (অপারেশন ও পরিদর্শন) খালেদ আহমেদ-এর তদন্ত রিপোর্টে ভুয়া ঠিকানায় নিয়োগ ও দুর্নীতির সত্যতা প্রমাণিত হয়।
মো. আহম্মদুল্লাহ্ এনপিএসের দায়িত্ব পেয়ে বিপিসির ব্যাংক হিসাবের এফডিআর ও এসএনডি হিসাবে তার পছন্দনীয় ব্যাংকগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে মোটা অংকের মাসোহারা নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি করেছেন। তিনি তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনকে বিভিন্ন ব্যাংকে চাকরি দিয়ে ব্যাংকসমূহকে এফডিআর ও এসএনডি হিসাবে বিপিসির কোটি কোটি টাকা জমা রাখতেন।
এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ এস আলমের সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদে এস আলমের ব্যাংকসমূহে বিপিসির হাজার হাজার কোটি টাকা এসএনডি ও এফডিআর হিসাবে জমা করেন। এসব ব্যাংকের এসএনডি ও এফডিআর হিসাবে সর্বশেষ জমাকৃত প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা বিপিসি এখনো তুলতে পারেনি।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি বেসরকারি ব্যাংকে এলসি’র অতিরিক্ত অর্থ জমা, মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, বেসরকারি রিফাইনারী থেকে মাসোহারা গ্রহণ এবং বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনকে চাকরি দেওয়ার মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেছেন।এসপিএম প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন প্রকল্প, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ পাইপলাইন প্রকল্পসহ বিপিসির চলমান প্রকল্প থেকে মোটা অংকের কমিশন বাণিজ্য এবং প্রকল্পের জন্য শ্রমিক, কর্মচারী নিয়োগে লক্ষ লক্ষ টাকা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
এছাড়াও, তিনি বিপিসির অধীনস্ত বিভিন্ন কোম্পানি থেকে গাড়িসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ভোগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বেসরকারি রিফাইনারীসমূহ থেকে লাখ লাখ টাকা মাস ভিত্তিক মাসোয়ারা গ্রহণ করেন।
বিপিসির ইস্টার্ণ রিফাইনারীর যন্ত্রাংশ ক্রয়ের নামে প্রতি বছরে ৭০-৭৫টি এলোকেশন অনুমোদন দিয়ে বিপিসির শত শত কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি করে মোটা অংকের মাসোহারা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া ইস্টার্ণ রিফাইনারীর প্রসেসিং ফি থেকেও মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। তার এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে অনুসন্ধান হলেও তা প্রকাশ পায়নি। তবে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুদকে সম্পদের হিসাব বিবরনী জমা দিয়েছেন মো. আহম্মদুল্লাহ্। এবিষয়ে তার সাথে কথা বলার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
