রাজউকে বেপরোয়া সোহাগ মিয়ার সিন্ডিকেট

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ১৮:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

  এ আর মোল্লাঃ

★ অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ। 
★ নকশা বানিজ্য, নোটিশ বানিজ্য, মিটার বানিজ্য। 
★ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে প্রতিবেদককে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা।  

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জোন ৪/২ এর পরিদর্শক সোহাগ মিয়া গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তিনি কয়েকজন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, কয়েকজন উর্ধতন কর্মকর্তা, একাধিক বেআইনীভাবে নিজের নিয়োগকৃত সহকারী ও কিছু  দালালদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন এই সিন্ডিকেট।সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা ছাড়াও নকশা, ছাড়পত্র ও ভবন উচ্ছেদের পর বিদ্যুতের মিটার পাইয়ে দিয়ে লাখ লাখ টাকা বানিজ্য করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত।

সোহাগ সিন্ডিকেটের অপতৎপরতায় গুলশান এভিনিউ রোডের পূর্ব পাশ, প্রগতি সরণীর পূর্ব পাশ, বাড্ডা আনন্দ নগর, ডিআইটি প্রজেক্ট, আদর্শ নগরসহ আরও বেশকিছু এলাকা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সোহাগ সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের চাহিদামতো অর্থ পেলে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে আর কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়না। তবে চাহিদামতো অর্থ না পেলে সিন্ডিকেটেটি টাকা আদায়ে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন একটি, দুইটি, তিনটি নোটিশ, কখনোবা মোবাইল কোর্ট।

প্রকৃতপক্ষে এসব নোটিশ টাকা আদায়ের পর অদৃশ্য হয়ে যায়, নেয়া হয়না আর কোন ব্যবস্থা। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আংশিক ভেঙে রাজউক বিদ্যুতের মিটার নিয়ে আসলেও, টাকা আদায়ের পর আশপাশের ভবন থেকে বিদ্যুতের লাইন লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে ভেঙ্গে ফেলা অংশের জোড়াতালি ও চালিয়ে নিচ্ছে নির্মাণকাজ। নিয়ম অনুযায়ী ভবন মালিক নিজ খরচে ভবনের অনিয়মিত অংশ ভেঙে ফেলার পর বিদ্যুতের মিটার নিয়ে পুনরায় নির্মাণকাজ সমাপ্তি করবে। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে সোহাগ সিন্ডিকেটেকের আশির্বাদে রাজধানীর একটি বিশাল এলাকায় গড়ে উঠেছে শতশত অবকাঠামোর নামে মরণ ফাঁদ।

সোহাগ মিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান করলে এসব অপকর্মের ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। ভুমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কেড়ে নিতে পারে শতশত তাজা প্রাণ। সম্প্রতি উত্তর বাড্ডা সাঈদ নগর সি ব্লকে একটি ভবন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আংশিক ভেঙে মিটার মিটার নিয়ে আসলেও। কিছুদিনের মধ্যেই তিন লাখ টাকায় রফাদফা করে সোহাগ মিয়া তাদের পাশের ভবন থেকে বিদ্যুতের সংযোগ নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এছাড়া নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ডেভেলপার কোম্পানির ম্যানেজার জানিয়েছেন, আমাদের কোম্পানি একটি নাকশার জন্য রাজউকে আবেদন করলে সোহাগ মিয়া বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করতে থাকে। আজ এই সমস্যা কাল ঔ সমস্যা বলে মাসের পর মাস হয়রানি করে। এক পর্যায়ে আপনার জায়গার বিভিন্ন ঝামেলা আছে বলে ফাইলই স্থগিত করে রাখে। শেষ পর্যন্ত ঝামেলা মেটাতে সোহাগ মিয়াকে পনের লাখ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। সাঈদ নগর সি ব্লকের ভবনটিতে বিদ্যুৎ লাইন কেটে মিটার নিয়ে আসার পর পাশের ভবন থেকে বিদ্যুৎ লাইন এনে ভবনটি জোড়াতালি দিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে এমন তথ্য সোহাগ মিয়াকে জানালে, তিনি বলেন কালকে বিষয়টি দেখবো। একদিন পর আবারও সোহাগ মিয়ার সাথে কথা বললে, তিনি বলেন লাইন কেটে দিয়েছি আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ভবনটিতে বিদ্যুৎ লাইন ও নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সোহাগ মিয়া প্রতিবেদককে বিভ্রান্ত করে।

এ ব্যাপারে ভবনটির একাংশের মালিক শামিমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি সোহাগ মিয়ার সাথে তিন লাখ টাকায় রফাদফা করে আমরা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছি। পরবর্তীতে অধিকতর অনুসন্ধানের স্বার্থে আবারও সোহাগ মিয়াকে, সাঈদ নগরে ভবনের নির্মাণকাজ করার সুযোগ দিতে তিন লাখ টাকা ও নকশা দিতে পনেরো লাখ টাকা ঘুসের অভিযোগের কথা জানালে তিনি সবকিছু অস্বীকার করেন। সাঈদ নগরে পাশের ভবন থেকে বিদ্যুৎ লাইন এনে নির্মানকাজ করার ব্যাপারে আপনার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে সোহাগ মিয়া বলেন, মৌখিকভাবে জানিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে লিখিতভাবে জানাতে হবে এমন প্রশ্নে তিনি কিছুটা বিরক্ত হয়ে উত্তর দেন, আমার মৌখিকই লিখিত। সোহাগ মিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হয়েছে। এসব তথ্য হাত পেলে পরবর্তী সংখ্যায় সোহাগ মিয়ার দূর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র আরও বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।


আমার বার্তা/এমই