দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের লিড ১৫৩ রান

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৬:২০ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

দলীয় স্কোর তিনশ পার হওয়ার পরপর ছোট্ট একটা ধস। অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের শক্ত জবাব তখন যেন কিছুটা ম্লান হতে বসেছিল। কারণ লিড তখনো একশর ঘরে। ৬ষ্ঠ উইকেট হিসেবে মুশফিকের আউটের পর মনে হচ্ছিল বেশিদূর যেতে পারবে না বাংলাদেশ।

কিন্তু সেখান থেকেই শুরু নতুন লড়াই। মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ দৃঢ় হাতে ঠেকালেন মাঝের ওই ধস। প্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলেন দুজন। ৩০৮ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর দুজন মিলে দিন শেষ করেছেন অপরাজিত থেকে। স্কোর নিয়ে গেছেন ৩৫১ রানে।

    দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ৩৫১/৬ (মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩*; তানজিদ ১০১, শান্ত ৮৪; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮) 

    অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ (স্মিথ ৭১, হাসান ৬/৫৫); বাংলাদেশের লিড ১৫৩ রানের।

ইনিংসের ৮০তম ওভার শেষে নতুন বল নেয় অস্ট্রেলিয়া। সে সময় বাংলাদেশকে কিছুটা ব্যাকফুটে ফেলেছিল স্বাগতিকরা। মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশ তিন উইকেট হারায়। এরপর একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ভয় ছিল অপর প্রান্তের উইকেট নিয়ে। সেখানে দারুণ ব্যাটিং করছেন পেসার হাসান মাহমুদ। ইতোমধ্যে লিড দেড়শ ছাড়িয়েছে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে টাইগারদের লিড ১৫৩ রানের।

দিনের শুরুতে তানজিদ ও মুমিনুল হকের ১০২ রানের জুটিতে বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। মুমিনুল ৪৯ রানে আউট হওয়ার পর শান্ত ও তানজিদ দলকে এগিয়ে দেন। ১৮৮ বলে চমৎকার সেঞ্চুরি করেন তানজিদ। বাংলাদেশ বড় লিড নেওয়ার আভাস দিচ্ছিল। শান্তও ছিলেন সেঞ্চুরির কাছে। কিন্তু সেঞ্চুরির পরপর তানজিদ এবং ৮৪ রানে অধিনায়কের আউটের পর ধাক্কা খায় সফরকারীরা।

৩ উইকেটে ২৯৭ রান করা বাংলাদেশ ৩০৮ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারায়। নতুন বলে ১১ রানে তিন ব্যাটারের পতন হয়। জশ হ্যাজলউড শান্তকে স্টিভ স্মিথের ক্যাচ বানান। অজি পেসারের এক্সট্রা বাউন্সে বল তার ব্যাটের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে ধরা পড়ে। ১২৬ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে ইনিংস সাজানো ছিল অধিনায়কের ১৬ রানের আক্ষেপে ভাসানো ইনিংস।

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে দলে জায়গা পাওয়া লিটন দাস আজ কিছুই করতে পারলেন না, আউট হয়ে যান শূন্য রানে। স্টার্কের বলে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বল থিক এজ হয়ে স্মিথের হাতে এসে পড়ে। মুশফিক সেট হওয়ার আভাস দিলেও ফিরতে হয়। ৫৫ বলে ৩৬ রান করে প্যাট কামিন্সের শিকার হন তিনি।

৩০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট পড়ার পর ক্রিজে লড়াই শুরু করেন হাসান ও মিরাজ। দাঁত কামড়ে পড়ে থাকার পণ করেন তারা। এখন পর্যন্ত সফল তারা। প্রায় ২৫ ওভার ব্যাট করলেন দুজনে। ৭৩ বলে ৩২ রানে মিরাজ ও ৭৬ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত আছেন হাসান। তাদের এমন প্রাচীর গড়া ইনিংসে বাংলাদেশ বড় লিড নেওয়ার আশা করছে।

এদিকে, শেষ মুহূর্তে বিপদে পড়তে যাচ্ছিলেন মিরাজ। রক্ষা পেলেন ক্যাচ মিস হওয়ায়। মার্নাস লাবুশেনের বলে ক্যামেরন গ্রিন নিচু ক্যাচ ধরতে পারেননি। ৩২ রানে পাওয়া জীবনের সদ্ব্যবহার মিরাজ শেষ পর্যন্ত করতে পারবেন কি না সেটাই দেখার অপেক্ষা। আপাতত গ্রিনের হাত ফসকে মিরাজের উইকেট বেঁচে যাওয়ার সঙ্গেই ‘দিনের খেলা শেষ’ ঘোষণায় বাংলাদেশ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।