ফিফাকে ২৬ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার চিঠি, বাংলাদেশ পাচ্ছে কত

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বিশ্বকাপ ফুটবলের আংশিক মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব ঘিরে সমালোচনার মধ্যে এবার নতুন চাপের মুখে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে ২১১ কোটি ডলার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে উয়েফা ও কনকাকাফ। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ৯২০ কোটি টাকা।

বিবিসি স্পোর্টসের হাতে আসা উয়েফা ও কনকাকাফের যৌথ চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৭-২০৩০ চক্রে ফিফার ২১১ সদস্য সংস্থার প্রত্যেককে অন্তত ১ কোটি ডলার করে দেওয়া উচিত। সে হিসাবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) পেতে পারে ১ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৩ কোটি টাকা।

এই অর্থ মূলত ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। যৌথ চিঠিতে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফারিন ও কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তালিয়ানি স্বাক্ষর করেছেন।

চিঠিতে ফিফার বর্তমান আর্থিক অবস্থারও একটি হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। উয়েফা ও কনকাকাফের দাবি, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চার বছরে ফিফার তহবিলে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার জমা হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৭৩ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা।

তাদের মতে, ২০৩০ সালের পুরুষদের বিশ্বকাপ পর্যন্ত হিসাব করলেও সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া ফিফার জন্য সম্ভব।

এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফিফার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে আসতে হয় ফিফাকে। পরবর্তীতে এ নিয়ে ক্ষমাও চেয়েছিলেন ফিফা সভাপতি।

তবে বিতর্ক থামেনি। ফিফার কয়েকটি সদস্য সংস্থা ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে এবং কেউ কেউ তাঁর পদত্যাগও দাবি করেছে। উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসির পক্ষ থেকেও যৌথভাবে বলা হয়েছিল, ফুটবল কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।

আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি পদে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে লড়ার কথা রয়েছে ইনফান্তিনোর। ২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিফার নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি। নির্বাচন সামনে রেখে ২১১ সদস্য সংস্থার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের এই দাবি তাঁর ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।