কুৎসিত হারের জন্য দেশবাসীর কাছে লজ্জিত-দুঃখিত সালাউদ্দিন
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল চীনের বিপক্ষে নির্ধারিত প্রথম ম্যাচ। তবে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় সেমিফাইনালে উঠে যায়। সেখানে পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং আজ (শনিবার) ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে কুৎসিত এক হার দেখেছে লিটন দাসের দল। লঙ্কান ‘বি’ দলের বিপক্ষে মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয়ে ৬৩ রানে হেরেছে পূর্ণশক্তির বাংলাদেশ।
খেলা শেষ হওয়ার পরপরই বাংলাদেশি সাংবাদিকরা মিক্সড জোনের দিকে হেঁটে যান। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর অভিষিক্ত ক্রিকেটার আলিস আল ইসলাম ও টুর্নামেন্টে লিটনদের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এলেন। এশিয়ান গেমসে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা উভয়ই দুর্বল দল পাঠিয়েছে। দুই দলের বিপক্ষে হেরে এশিয়ান গেমস থেকে প্রথমবারের মতো শূন্য হাতে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবেই কোচ সাংবাদিকদের প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়েছেন।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ সালাহউদ্দিন ফাইনালে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন। ফাইনাল তো হয়নি, উল্টো একেবারে খর্বশক্তির শ্রীলঙ্কার কাছেও ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে। এ নিয়ে প্রশ্ন করতেই কোচ সালাহউদ্দিনের অসহায় আত্মসমর্পণ, ‘সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’
খেলায় হারজিত থাকবেই, কিন্তু তাই বলে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো এমন দ্বিতীয় সারির স্কোয়াড নিয়ে যাওয়া দলের বিপক্ষে এভাবে হেরে শুধু দুঃখ ও ক্ষমা চেয়েই কি দায় শেষ! এর আসল কারণ নিয়ে প্রশ্ন হলে কোচের উত্তর, ‘এই উইকেটে বোলাররা কয়েক ওভার খুব বাজে বল করেছে। যারা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট তারাই বেশি রান দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে-তে বেশি উইকেট হারিয়েছি।’
মুস্তাফিজুর রহমান টি টোয়েন্টি ফরম্যাটে দেশের সেরা বোলার। জাপানের এশিয়ান গেমসে তিনি স্বাভাবিক ছন্দে ছিলেন না। গত ম্যাচে ধোলাই খাওয়ার পর তাকে পুনরায় আরেক ওভার দেওয়ায় সমালোচনা হয়েছে। আজও তার প্রথম ওভারে ২৫ রান দেওয়ার পর থেকেই ম্যাচ শ্রীলঙ্কার হাতে। মুস্তাফিজকে নিয়ে বাংলাদেশ কোচ বললেন, ‘আসলে মুস্তাফিজ অনেকদিন ধরে ইনজুরিতে ছিল এবং সে আমাদের গত ১০ বছরে সেরা খেলোয়াড়দের একজন। খেলার মধ্যে নতুন কোনো ইন্সট্রাকশন পাঠানো হয় না। বিশেষ করে সে ডেড ওভার স্পেশালিস্ট। ফলে তার ওপর আমাদের ভরসা রাখতেই হবে।’
মুস্তাফিজের পাশাপাশি অধিনায়ক লিটনও কাঠগড়ায়। তিনি দুই ম্যাচে মাত্র দুই রান করেছেন। প্রথম ম্যাচে বোলারদের ব্যবহার নিয়েও রয়েছে বড় প্রশ্ন। অধিনায়কের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোচ সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি সব সময় বলব তারা দেশের জন্য লড়ে। তারা ফেইল করছে, সেটা নিয়ে আমরা অবশ্যই লজ্জিত। টু বি অনেস্ট আমরা টোটাল টিম হিসেবে ভালো পারফর্ম করিনি।’
দুঃখ ও ক্ষমা প্রসঙ্গ আসায় কোচকে শুনতে হয়েছে অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার-সহ আরও অনেক ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়রা হাজার সীমাবদ্ধতার মধ্যে খেলার কথা। সেখানে ক্রিকেটাররা সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দুর্বল দলের বিপক্ষে পদক হারানোয় অনুতপ্ত বা বাড়তি অনুশোচনা রয়েছে কি না? এমন প্রশ্নে কোচের উত্তর, ‘আমরা সবাই হতাশ। আমরা এখানে লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু ফেইল করেছি, ভালো খেলতে পারিনি।’
দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ইতিবাচক মনোভাবে ছিলেন না। বিশেষ করে আজ ব্যাটসম্যানরা সেটই হতে পারেননি। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কোচ সালাহউদ্দিন ক্রিকেটারদের পক্ষ নিয়েই বলেন, ‘প্লেয়াররা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা গেমপ্ল্যান ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচটি বের করা সম্ভব হয়নি।’
