অ্যানফিল্ডে বিশাল আকারের কলা কেন এনেছিলেন ম্যানসিটি সমর্থকরা?
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

অ্যানফিল্ডে লিভারপুল সমর্থকদের মুখোমুখি হওয়ার সময় ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকরা আকাশে শত শত বাতাস ভরা কলা ওড়ান।
২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ক্লাবের আবুধাবির মালিকরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন বলে একটি স্বাধীন কমিশন রায় দেওয়ার পর প্রিমিয়ার লিগে সিটির এটিই ছিল প্রথম ম্যাচ। ক্লাবটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। তাদের অবস্থানকে সমর্থন করার মতো অকাট্য প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছে।
সিটির গত এক দশকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুলের প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ আক্রমণাত্মক। খেলার শুরুর দিকে সিটির খেলোয়াড়রা বল স্পর্শ করলেই তাদের তীব্রভাবে দুয়ো দেওয়া হয়।
খেলা শুরুর আগে সিটি সমর্থকরা তাদের খেলোয়াড়দের হাততালি দিয়ে সাধুবাদ জানান এবং বিশাল আকৃতির কলা ওড়ান। এটি আশির দশকের শেষের দিকের একটি ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা, যখন ইংরেজ ফুটবলের এক কঠিন সময়ে সমর্থকরা ম্যাচে কলা ও অন্যান্য বাতাস ভরা জিনিসপত্র নিয়ে আসতেন।
এই ধারণাটি ‘১৮৯৪’ নামক সমর্থক গোষ্ঠী দ্বারা প্রচারিত হয়েছিল এবং এটি ফুটবল কর্তৃপক্ষের সাথে সংঘাতের মাঝে খেলায় আনন্দ ফিরিয়ে আনার একটি ইঙ্গিত। গত সপ্তাহে গোষ্ঠীটি টুইট করেছিল, ‘বার্তাটি হলো—এই ভক্তরা সবসময় একটি রোলারকোস্টারের মধ্য দিয়ে গেছে।’
গোপন তহবিল স্কিম ব্যবহার করে ৯০ কোটি পাউন্ড রাজস্ব বাড়িয়ে দেখানোর জন্য সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ মৌসুমে লিভারপুল রানার্সআপ হয়েছিল এবং রোববারের প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচের সময় সমর্থকরা সিটির প্রতি তাদের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্টেডিয়ামের বাইরে, মার্চেন্ডাইজ বিক্রেতারা এমন পতাকা এবং স্কার্ফ বিক্রি করেছেন যাতে ম্যানসিটির খেলোয়াড়দের ছবির সাথে ‘দোষী’ এবং ‘প্রতারক’ শব্দগুলো লেখা ছিল। অন্যদিকে, নির্ধারিত বিকেল সাড়ে চারটার কিক-অফের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে লিভারপুল সমর্থকরা টিম বাসকে স্বাগত জানাতে রাস্তার দুপাশে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
ম্যানচেস্টার সিটি ‘নিচে নেমে যাচ্ছে, নিচে নেমে যাচ্ছে’ এবং ক্লাবটি প্রতারক—এমন নানা গান গাওয়া হয়। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মার্সিসাইড পুলিশ ড্রোন ওড়ায় এবং মাঠের চারপাশে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয়। লিভারপুলের টিম বাসটি ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পৌঁছালেও সিটির দুটি কোচ ভিড় এড়াতে তুলনামূলক শান্ত ও বিকল্প রুট ব্যবহার করে স্টেডিয়ামে পৌঁছায়।
তবে স্টেডিয়ামের ভেতরে খেলোয়াড়েরা মাঠে নামার সাথে সাথেই দর্শকদের দুয়োর মুখে পড়েন। এছাড়া মাঠের এক কোণে স্বাগতিক সমর্থকরা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন যাতে লেখা ছিল—‘সমর্থকদের একটি প্রজন্মকে প্রতারিত করা হয়েছে।’
কেন ম্যানসিটি বাতাস ভরা কলা এনেছিল?
১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যাওয়ার পর থেকে বাতাস ভরা কলা সিটির প্রতীক হয়ে উঠেছে। ঠিক কী কারণে এই কলা ওড়ানো হয়, তা নিয়ে তর্কবিতর্ক রয়েছে। কিন্তু অনেকের দাবি, এর পেছনে সাবেক স্ট্রাইকার ইমরে ভারাদির অবদান আছে।
সমর্থকরা তাকে ‘ইমরে বানানা’ ডাকনাম দেয় এবং এটি স্লোগানে পরিণত হয়েছিল। পরে এক ভক্ত বাতাস ভরা কলা মাঠে নিয়ে আসেন এবং অদ্ভুতভাবে ৮০-৯০ এর দশকে সিটির ম্যাচে ঐতিহ্য হিসেবে ঢুকে যায়।
লিভারপুল ম্যাচের আগে ভক্তদের কাছে কলা বিক্রি করা দান্তে ফ্রেন্ড বলেছেন, ‘কেবল একজনই তাকে ইমরে বানানা নাম দিয়েছিল। তার নাম ছিল ফ্রাঙ্ক নিউটন, পরের ম্যাচে তিনি বাতাস ভরা কলা আনেন মাঠে। তারপর থেকে সবাই এটা আনতে শুরু করেছিল।’
ফুটবলে যখন গ্যালারিতে সহিংসতা ঢুকে গিয়েছিল, তখন এটা ওই ধরনের শত্রুভাবাপন্ন পরিবেশে কিছুটা মজার খোরাক জুগিয়েছিল। ফ্রেন্ড ব্যাখ্যা দিলেন, ‘তারা মারামারিতে আগ্রহী ছিল না। বেশিরভাগ ভক্ত হাসাহাসি করছিলেন। আমরা ধস দেখেছিলাম, নেমেছিলাম দ্বিতীয় বিভাগে।’
তিনি বলে গেলেন, ‘আমার মনে হয়, মাঝে মাঝে, যখন এটা ক্লাবের উদ্যোগে নয় বরং ভক্তদের উদ্যোগে হয়, তখন (কলা ফিরিয়ে আনা) বেশ ভালো একটা ব্যাপার হতে পারে। বেশ মজার হবে।’ মূলত প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ম্যানসিটিকে সমর্থন দিতেই এই বাতাসে ভরা কলা এনেছিলেন সমর্থকরা।
