
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে শুরু হয়েছে প্রযুক্তির বড় মেলা সিইএস ২০২৬। সেখানেই নতুন ফোল্ডেবল ফোন উন্মোচন করেছে মটোরোলা। ফোনটির নাম মটোরোলা রেজর ফোল্ড। এটি কোম্পানির প্রথম বই-স্টাইল ফোল্ডেবল স্মার্টফোন।
এত দিন রেজর মানেই ছিল ফ্লিপ ফোন। নস্টালজিয়ার আবরণে মোড়া ডিজাইন। কিন্তু এবার ভিন্ন পথে হাঁটল মটোরোলা। রেজর ফোল্ডকে আনা হয়েছে উৎপাদনশীলতার প্রতীক হিসেবে।
মটোরোলা জানিয়েছে, এই ফোন মূলত কাজ ও বিনোদনের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যবহারিক দিককে।
ফোনটি বন্ধ অবস্থায় দেখতে সাধারণ স্মার্টফোনের মতো। এতে রয়েছে ৬ দশমিক ৬ ইঞ্চির বড় এক্সটারনাল ডিসপ্লে। এই স্ক্রিনে দৈনন্দিন কাজ সহজে করা যাবে। মেসেজ দেখা যাবে, ইমেইল পড়া যাবে। অ্যাপ ব্যবহারেও আলাদা অসুবিধা হবে না।
ফোনটি খুললে দেখা যাবে বড় পর্দা। ভিতরে রয়েছে ৮ দশমিক ১ ইঞ্চির ডিসপ্লে। এটি একটি ২কে এলটিপিও স্ক্রিন। এই পর্দা বিশেষভাবে মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য তৈরি। একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো যাবে। বড় স্ক্রিনে কাজ করার সুবিধা মিলবে।
মটোরোলার দাবি, এই ফোন কাজের গতি বাড়াবে। ডকুমেন্ট দেখা সহজ হবে। ভিডিও কল বা প্রেজেন্টেশনেও সুবিধা মিলবে। এই ফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। মটোরোলা জোর দিচ্ছে অন-ডিভাইস এআইতে। নতুন দুটি ফিচারের কথা জানিয়েছে তারা। একটি হলো ‘ক্যাচ মি আপ’। অন্যটি ‘নেক্সট মুভ’।
‘ক্যাচ মি আপ’ ব্যবহারকারীকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখাবে। মিস হওয়া নোটিফিকেশন তুলে ধরবে। ‘নেক্সট মুভ’ পরবর্তী করণীয় সাজেস্ট করবে। এর ফলে অ্যাপ বদলাতে হবে কম। কাজ হবে আরও দ্রুত।
এই এআই সিস্টেম চালিত হচ্ছে নতুন প্ল্যাটফর্মে। এর নাম মটোরোলা কিরা। এটি একটি ইউনিফায়েড এআই প্ল্যাটফর্ম। মটোরোলা ও লেনোভো ডিভাইস একসঙ্গে যুক্ত করবে। একজন সহকারী হিসেবেই কাজ করবে কিরা।
ক্যামেরার দিক থেকেও ফোনটি শক্তিশালী। রেজর ফোল্ডে রয়েছে ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা। প্রতিটি ক্যামেরাই ৫০ মেগাপিক্সেলের। এর মধ্যে রয়েছে পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স। এতে দূরের ছবি তোলা সহজ হবে।
এ ছাড়া আছে আলাদা সেলফি ক্যামেরা। একটি ভেতরের স্ক্রিনে। আরেকটি বাইরের স্ক্রিনে। ভিডিও রেকর্ডিংয়ে রয়েছে ডলবি ভিশন সাপোর্ট। স্ট্যাবিলাইজেশন সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।
ক্যামেরার মূল সেন্সর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সনি লাইটিয়া সেন্সর। মটোরোলার দাবি, এই সেন্সর কম আলোতেও ভালো ছবি তুলতে সক্ষম।
রেজর ফোল্ডে থাকছে স্টাইলাস সাপোর্ট। এই ফিচার ফোনটিকে আরও সিরিয়াস করে তুলেছে। নোট নেওয়া যাবে। ড্রয়িং করা যাবে। ডিজাইন বা অফিস কাজেও ব্যবহার বাড়বে।
সিইএস ২০২৬-এ আরেকটি বিশেষ সংস্করণও দেখিয়েছে মটোরোলা। এটি ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এডিশন রেজর। এই ফোনে থাকবে কাস্টম ডিজাইন। থাকবে বিশেষ সফটওয়্যার ফিচার। বিশ্বকাপ উপলক্ষে এটি আনা হয়েছে।
তবে এখনো দাম ও বাজারে আসার সময় জানানো হয়নি। কোম্পানি এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি প্রিমিয়াম সেগমেন্টেই আসবে।
সব মিলিয়ে রেজর ফোল্ড একটি বড় পদক্ষেপ। নস্টালজিয়া থেকে সরে এসে মটোরোলা এবার ব্যবহারিক দিকেই জোর দিল। ফোনটি শুধু আকর্ষণীয় নয়, কাজেরও।
প্রযুক্তি বাজার এখন তাকিয়ে আছে পরবর্তী ঘোষণার দিকে। দাম ও প্রাপ্যতা জানা গেলেই রেজর ফোল্ডের আসল প্রভাব বোঝা যাবে।
আমার বার্তা/জেএইচ

