
রাজধানীর মিরপুর এলাকার দুয়ারীপাড়া, মরুল ও বাউনিয়া মৌজাস্থ আইন উদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা ওয়াকফা এস্টেটের সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এস্টেটের প্রতিনিধিরা। তারা দাবি করেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ অমান্য করে বিতর্কিত ভূমিতে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আমজাদ হোসেন মোল্লা ও মোবারক হোসেন মেম্বার। তারা জানান, ওয়াকফা এস্টেটের পক্ষে অফিসিয়াল মোতায়ওয়ালি আব্দুল কালাম আনসারী (জামাল) মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং-১৫২১/২০২১ দায়ের করেন। মামলায় ভূমি মন্ত্রণালয়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
তাদের অভিযোগ, মামলাধীন মিরপুর এলাকার দুয়ারীপাড়া, বাউনিয়া ও মরুল মৌজার তফসিলভুক্ত সম্পত্তির বিষয়ে মহামান্য আপিল বিভাগ ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখার নির্দেশ দেন, যা এখনও বলবৎ রয়েছে। কিন্তু আদালতের আদেশ সম্পর্কে অবগত থাকার পরও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টরা ওই নালিশি ভূমিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ওয়াকফা এস্টেটের খালি জমি দখল করে সেখানে বাড়ি ও বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া মামলার ৪ নম্বর বিবাদী রাজউক কর্তৃপক্ষও বিতর্কিত জমিতে ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও ছাড়পত্র প্রদান করছে, যা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অমাননার শামিল বলে দাবি করেন বক্তারা।
এ ঘটনায় আদালত অবমাননার অভিযোগে কন্টেম্পট পিটিশন নং-৬২/২০২৪ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তারা। মামলাটির শুনানির জন্য আগামী ২২ জুন ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, মামলার ১১ নম্বর বিবাদী জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর জোন হাউজিং সেকশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে এখনও বিতর্কিত ভূমিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
ওয়াকফা এস্টেটের প্রতিনিধিরা মহামান্য আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, অবৈধ দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আমার বার্তা/এমই

