
‘সত্য সুন্দর প্রকাশে, চ্যানেল আই আটাশে-এই স্লোগানকে বুকে ধরে ২৮ বছরে পা রাখল দেশের অন্যতম জনপ্রিয় বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল আই’।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১ অক্টোবর সকাল ১১ টায় চ্যানেল আই চেতনা চত্বরে দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বর্ণিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন।
এ সময় চ্যানেল আইয়ের পরিচালনা পর্ষদ, গণমাধ্যমকর্মী ও সংস্কৃতি অঙ্গনের গুণীজনদের সঙ্গে নিয়ে বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতার উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, ইমপ্রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুর রশীদ মজুমদার, ইমপ্রেস গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, পরিচালক জহিরউদ্দিন মাহমুদ মামুন, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লি. এর চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান, চিত্রনায়ক উজ্জ্বল, অভিনেত্রী দিলারা জামান, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক প্রমুখ।
মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন করেন, শিল্পী মো. খুরশীদ আলম, রফিকুল আলম সহ তরুণ প্রজন্মের শিল্পীবৃন্দ।
বর্ণিল এই আয়োজনে ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, পরিসংখ্যান বলে, পৃথিবীর যেসব জায়গায় বাংলা ভাষাভাষী মানুষ রয়েছেন, প্রায় প্রতিটি ঘরেই চ্যানেল আইয়ের দর্শক রয়েছে। চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশকে অনুভব করেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই বছরে সবচেয়ে বেশি দর্শক যে চ্যানেলটি দেখেছেন, সেটি চ্যানেল আই। এই সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ আমাদের দর্শক। তিনি আরও বলেন, চ্যানেল আইয়ের অন্যতম বড় সম্পদ হচ্ছে এর আর্কাইভ।
আমাদের বিশাল আর্কাইভে হাজারো সিনেমা রয়েছে, বহু গান রয়েছে, যা দিয়ে আমরা দিনভর অনুষ্ঠান প্রচার করতে পারি। পাশাপাশি চ্যানেল আইয়ের ফেসবুক, ইউটিউব, চ্যানেল আই পোর্টাল, আনন্দ আলো, রেডিও ভূমিসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে কোটি কোটি মানুষ আমাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
এই সাফল্যের জন্য চ্যানেল আই পরিবারের প্রতিটি সদস্য, কেবল অপারেটর ও বিজ্ঞাপনদাতাসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আবদুর রশীদ মজুমদার বলেন, আমরা সবসময় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। আমাদের সব অনুষ্ঠানই দেশ ও আমাদের সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে।
আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই।’
শাইখ সিরাজ বলেন, চ্যানেল আই সৃষ্টির সময় থেকেই আমরা গণমুখী হয়ে মানুষের কাছে পৌঁছাতে চেয়েছি।
সনাতনী চিন্তা থেকে বেরিয়ে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়েও কাজ করতে চেয়েছি। সেই জায়গা থেকে আমরা কতটা সফল, তা আমাদের দর্শকরাই বলবেন। অতীতে যেভাবে দর্শকদের সহযোগিতা পেয়েছি, আশা করছি ভবিষ্যতেও দেশ-বিদেশের দর্শকদের সহযোগিতা পাবো।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, চ্যানেল আই আজ দর্শকদের হৃদয়ে, বাংলাদেশের হৃদয়ে। আমাদের এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই, এভাবেই আপনারা চ্যানেল আইকে হৃদয় দিয়ে ভালোবেসে রাখবেন।জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুন বলেন, মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ২৮ বছর আগে চ্যানেল আই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, আমরা অনেকটাই সফল। দেশ-বিদেশের মানুষ চ্যানেল আইকে ভালোবাসেন, এটিকে আমরা আমাদের বড় অর্জন বলে মনে করি। এই অবস্থানে আসার জন্য আমাদের অসংখ্য কর্মী দিনরাত শ্রম দিয়েছেন। আমাদের কর্মী ও দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশটা কেমন, সেটা চ্যানেল আইয়ের পর্দায় চোখ রাখলেই বোঝা যায়। বিনোদন, সংস্কৃতি, কৃষি, প্রকৃতি ও দেশীয় ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে দর্শকদের সঙ্গে একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করেছে চ্যানেল আই। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনেও উঠে আসে সেই পথচলার নানা অর্জন ও আগামীর প্রত্যয়ের কথা। দিনভর ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয় চ্যানেল আই।
সন্ধ্যায় বিশাল কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়। উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান সহ চ্যানেল আইয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।

