
আসন্ন নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকির মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা নির্বাচন কমিশন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান হলফনামা ও অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে জোনায়েদ সাকির মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, আগামী সংসদ হচ্ছে মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের সংসদ। সেজন্যই এ সংসদ কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদেরও নির্বাচন। এটি একইসঙ্গে যেমন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তেমনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন।
তিনি বলেন, যে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি হয়েছে তার ভিত্তিতে আগামী সংসদে আমাদের সংবিধান সংস্কার হবে। তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পরিচালিত হবে। সেই গুরুত্বপূর্ণ একটি সংসদে সবাই যেন ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ রক্ষা করা, আমরা যেন একটা সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটে যারাই নির্বাচিত হোক, তারা সংসদে গিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাদের জন্য কাজ করতে পারে—সেই বাস্তবতা তৈরি করা আমাদের মূল লক্ষ্য।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জোনায়েদ সাকির নির্বাচনী হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় ও মোট সম্পদ তার নিজের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি।
হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জোনায়েদ সাকির বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৬ টাকা, অন্যদিকে তার স্ত্রী তাসলিমা আকতারের বার্ষিক আয় ২৩ লাখ ৯ হাজার ২১১ টাকা। সম্পদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। সাকির মোট সম্পদ ৪৬ লাখ ৬২ হাজার ৬০২ টাকা, তার স্ত্রীর সম্পদ ১ কোটি ২২ লাখ ৯৩ হাজার ৩০৪ টাকা।
জোনায়েদ সাকির আয়ের প্রধান উৎস তার পেশাগত আয় (৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা), যেখানে তিনি নিজেকে ‘প্রকাশক’ বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী তাসলিমা আকতার ‘শিক্ষক ও আলোকচিত্রী’ পেশার পাশাপাশি বাড়ি-দোকানের ভাড়া, সঞ্চয়পত্র ও স্থাবর সম্পদের ভাড়া থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করেন।
সাকির নামে রয়েছে ১১ একর অকৃষি জমি এবং একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য অগ্রিম দেওয়া ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ কৃষিজমি, একটি ফ্ল্যাট এবং একটি দোকান।
জোনায়েদ সাকি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আমার বার্তা/এমই

