
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, একসময় দেশে কে সরকার গঠন করবে এবং কে সংসদে যাবে, তা জনগণ নয়-একজন খুনি ঠিক করে দিত। গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। টানা ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে গাইবান্ধা স্টেডিয়ামের অডিটোরিয়াম হলরুমে ‘ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত এবং গণভোট বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেরাই নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করে জনগণের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করেছে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অসীম আত্মত্যাগের বিনিময়ে খুনি হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আপনারা যদি এই দেশে বৈষম্য, নিপীড়ন, অবিচার ও দুর্নীতি দূর করতে চান, তাহলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। আর যদি অন্যায় ও অবিচারের পক্ষে থাকেন, তাহলে ‘না’ ভোট দেবেন। এটি কোনো দলের স্বার্থে গণভোট নয়, এটি দেশের স্বার্থে গণভোট। বাংলাদেশের মানুষ একটি নতুন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চায়।
বক্তব্য চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা হাদি হত্যার বিচারসহ গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। উত্তরে তারা সন্তুষ্ট না হওয়ায় সভাস্থলে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তাৎক্ষণিকভাবে হলরুম ত্যাগ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল কুমার দাসসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ছাত্র-জনতা।

