
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব ধীরে ধীরে দেশের জ্বালানি খাতেও অনুভূত হতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে ফেনী থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়কের পেট্রোল পাম্পগুলোতেও।
মহাসড়কের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায়, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার এবং গণপরিবহনের চালকদের দীর্ঘ সারি। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও পাম্পে সরবরাহ কম থাকায় নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
একজন মোটরসাইকেল চালক জানান, তিনি প্রায় তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৫০০ টাকার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। তার ভাষায়, “এইভাবে যদি তেল কম পাওয়া যায়, তাহলে নিয়মিত গাড়ি চালানো খুব কঠিন হয়ে যাবে।”
পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না আসায় তাদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সরবরাহ সীমিত থাকায় অনেক গ্রাহককে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে কিছু স্থানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ যেহেতু আমদানিনির্ভর দেশ, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য অস্থিরতাও দ্রুত দেশের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। তারা বলছেন, পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি না করলে পরিবহন খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে পরিবহন খাতে পড়তে শুরু করেছে। অনেক পণ্যবাহী ট্রাক ও গণপরিবহন নিয়মিত চলাচল করতে পারছে না। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

