
খুলনার কয়রা উপজেলায় উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও উন্নয়নকর্মীদের অংশগ্রহণে এ কর্মশালায় প্রথম বছরের কার্যক্রমের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন অ্যাকশনের আয়োজনে “এমসিসি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার এসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম”-এর প্রথম বর্ষ সমাপ্তি ও অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক নৃপেন বৈদ্য।
কর্মশালায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে প্রকল্পের কার্যক্রম ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব নিয়ে মতামত প্রদান করেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার সরকার মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কৃষি কর্মকর্তা তিলোদক কুমার ঘোষ কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও কৃষকদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
এছাড়া সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রসার এবং প্রান্তিক মানুষের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে সামাজিক উদ্যোগের ভূমিকা তুলে ধরেন।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তির আহ্বানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক য্যাকব টিটু পিনারু, প্রকল্প কর্মকর্তা ফারহানা জাহান এবং এফএসএল প্রকল্পের ফিল্ড অর্গানাইজার মো. মফিজুল ইসলাম, রাসেল আহমেদ ও সাধনা মুন্ডা। তারা প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে কর্মসূচির প্রথম বছরে বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং অর্জিত অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রকল্পের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ, স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অংশগ্রহণকারীরা মতামত দেন যে, সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা গেলে এই কর্মসূচির সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

