
মার্চের চেয়ে এপ্রিলে দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা গতি এসেছে। কৃষি ও উৎপাদন খাত সম্প্রসারিত হওয়ায় দেশের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) সূচক এপ্রিলে ১ দশমিক ১ পয়েন্ট বেড়েছে।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত ‘ডিসকাশন সেশন অন দ্য পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ও পলিসি এক্সচেঞ্জ এবং এমসিসিআই যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন এমসিসিআইয়ের মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফারুক আহমেদ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অফ পারচেজিং অ্যান্ড মেটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্টের (এসআইপিএমএম) নির্বাহী পরিচালক স্টিফেন পোহ।
এ ছাড়া মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি এবং এমসিসিআইয়ের গবেষক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে রবি আজিয়াটা পিএলসির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার এম এনামুল্লাহ সাঈদ, কোকাকোলা বেভারেজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ফিন্যান্স ইন্টিগ্রেশন লিডার আহমেদ জাহিদ ইরদম, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম এবং ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির এডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মনিরুল ইসলাম সভায় উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) বেড়ে ৫৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা মার্চ মাসের তুলনায় ১ দশমিক ১ পয়েন্ট বেশি। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে কৃষি খাত, মাসের ব্যবধানে ৫১ দশমিক ৬ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৭০ দশমিক ৭ পয়েন্টে উঠেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে উৎপাদনের সূচকও, খাতটি ৪৯ দশমিক ৭ থেকে বেড়ে ৫৬ দশমিক ৯ পয়েন্টে উঠেছে। তবে নির্মাণ খাত ৪৯ দশমিক ২ পয়েন্ট থেকে কমে ৪৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে ও সেবা খাত ৫৬ দশমিক ৪ থেকে কমে ৫১ দশমিক ৮ পয়েন্টে নেমেছে।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, পিএমআই সূচক বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য মাইলস্টোন। এটি সরকারকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যেমন সহায়তা করে, তেমনি কোম্পানিগুলোর জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণ সহজ করে দেয়।
এসআইপিএমএমের নির্বাহী পরিচালক স্টিফেন পোহ বলেন, সিঙ্গাপুরে দুই দশক ধরে পিএমআই সূচক চালু রয়েছে। এটি দেশটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করছে। বিশ্ববাসীর কাছে তাদের অর্থনীতির ধারণা দিতে পিএমআই সূচক খুবই গুরুত্ব বহন করছে।
সভায় পিএমআই সূচকে আরও বিভিন্ন খাতের জরিপ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে যুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়।
এমসিসিআইয়ের মহাসচিব ফারুক আহমেদ বলেন, আমরা মতিঝিলে একটি কার্যালয়ে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। এই ধরনের জরিপ পরিচালনা অনেক ব্যয়বহুল। এজন্য অনেক ফান্ডের প্রয়োজন হয়। ফান্ডের ব্যবস্থা হলে আমরা ধীরে ধীরে গবেষণার পরিধি বাড়াব।
তিনি আরও বলেন, গবেষণা পরিচালনায় অনেক সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বারবার মেইল করেও সাড়া পাওয়া যায় না। এতে গবেষণার কাজ অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হয়।
সভায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন অর্থনীতিবিদ ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের সিনিয়র ম্যানেজার হাসনাত আলম। তিনি বলেন, গত এপ্রিল মাসে অন্যান্য খাত সংকুচিত হলেও কৃষি ও উৎপাদন খাত সম্প্রসারিত হয়েছে। নির্মাণ খাত অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ায় স্টিল খাতের কোম্পানিগুলো ব্যবসায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পলিসি এক্সচেঞ্জের সিনিয়র ম্যানেজার হাসনাত আলম বলেন, এই সূচক নির্ধারণে আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা বা মালিক পক্ষকে কয়েকটি প্রশ্ন করি। ৭ থেকে ৮টি প্রশ্ন করা হয়। এতে বোঝা যায় ওই কোম্পানি আগের চেয়ে কর্মসংস্থান বাড়িয়েছে কি না, আমদানি বেশি করেছে কি না, রপ্তানি কতটা করেছে— এমন সব তথ্য উঠে আসে। আর বিভিন্ন খাতের বিভিন্ন কোম্পানি সম্পর্কে এসব তথ্য একত্রিত করলে দেশের সামগ্রিক চিত্রও উঠে আসে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সূচকের এই উন্নয়নের মাধ্যমে বোঝা যায়, দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও গতি এসেছে। গত মাসে নির্মাণ ও সেবা খাত সংকুচিত হলেও কৃষি ও উৎপাদন খাতের কারণে পিএমআই সূচকের উন্নয়ন ঘটেছে।
আমার বার্তা/এমই

