
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানোর একটি কাঠামোগত চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়াবে।
তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চুক্তিতে স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেননি।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঠিক কখন বা আদৌ প্রেসিডেন্ট এমওইউতে স্বাক্ষর করবেন কি না, তা বলা কঠিন। কিছু ভাষাগত বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তবে আমরা অনেক অগ্রগতি করেছি।
ভ্যান্স আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ইরান সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই আলোচনা করছে এবং উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু করতে চায়। তবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেনসেট বলেন, সম্ভবত আমরা একটি চুক্তির ভিত্তি পেয়ে গেছি। তবে তিনি জানান, ট্রাম্পের নির্ধারিত কিছু লাল দাগ এখনো পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, তিনি খারাপ কোনো চুক্তি করবেন না। তিনি আমেরিকান জনগণের জন্য একটি দুর্দান্ত চুক্তি করবেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ৬০ দিনের এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি থাকবে। সেখানে কোনো টোল বা হয়রানি থাকবে না এবং ইরানকে ৩০ দিনের মধ্যে সব নৌমাইন সরিয়ে ফেলতে হবে।
এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে, তবে তা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কতটা পুনরুদ্ধার হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেবে। পাশাপাশি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, সেটিও আলোচনার প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।
এর আগে বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের প্রস্তাবে তিনি এখনো সন্তুষ্ট নন এবং প্রয়োজনে সামরিকভাবে কাজ শেষ করার হুঁশিয়ারিও দেন।
ট্রাম্প বারবার বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের যেকোনো চুক্তির শর্ত হিসেবে ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে।
গত ৭ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।
তবুও মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় শান্তিচুক্তিকেই অগ্রাধিকার দেন। এখন পর্যন্ত আমরা যা করেছি, সবই আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ।
সূত্র: এএফপি
আমার বার্তা/জেএইচ

