ই-পেপার বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

আ.লীগের শাসনামলে গুম হওয়া ২৫১ জন এখনো নিখোঁজ

আমার বার্তা অনলাইন
০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০৪

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে আওয়ামী লীগের দেড় যুগের শাসনকালে ১ হাজার ৫৬৯টি গুমের ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। এর মধ্যে অন্তত ২৫১ জন ব্যক্তি এখনো নিখোঁজ। তাঁদের মৃত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

এর বাইরে গুম থাকার নির্দিষ্ট সময় পর আরও ৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ব্যক্তির অনেকেই তথাকথিত ‘ক্রসফায়ারের’ শিকার হয়েছেন অথবা নদীতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তদন্ত কমিশন বলছে, এখনো নিখোঁজ এবং মরদেহ উদ্ধারের এই ঘটনাগুলোর অর্থ হলো, কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়া সীমিতসংখ্যক অভিযোগ থেকেও অন্তত ২৮৭টি মৃত্যু সরাসরি গুমের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন।

কমিশন জানায়, মোট ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ গুম তদন্ত কমিশনে জমা পড়ে। এর মধ্যে যাচাই–বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।

গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন বলছে, ১১৩টি অভিযোগ তদন্তের পর দেখা গেছে যে সেগুলো গুমের আইনি সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। কিছু ক্ষেত্রে কথিত অপরাধী কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল না। অন্য কিছু ক্ষেত্রে আটকটি ছিল নিয়মিত গ্রেপ্তার, যেখানে হেফাজতের সময় ২৪ ঘণ্টার কম ছিল।

তবে মোট গুমের সংখ্যা জমা পড়া অভিযোগের চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করছে তদন্ত কমিশন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কমিশন বলেছে, তারা যে ১ হাজার ৫৬৯টি স্বতন্ত্র অভিযোগ পেয়েছে, তা সম্ভবত প্রকৃত ঘটনার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ। মোট ঘটনার ওপর ভিত্তি করে হিসাব করলে সম্ভাব্য গুমের সংখ্যা আনুমানিক ৪ হাজার থেকে ৬ হাজারের মধ্যে হতে পারে।

কমিশনের প্রতিবেদন বলছে, গুমের ঘটনাগুলোয় র‍্যাব, পুলিশ, ডিজিএফআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নাম উঠে এসেছে। বছরভিত্তিক ও বাহিনীভিত্তিক অভিযোগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট অভিযোগের প্রায় এক-চতুর্থাংশে র‍্যাবের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে।

>> কোন দলের কত গুম

কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে গুম হওয়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়ও উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, গুমের ঘটনাগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় বোঝা অপরিহার্য। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কেবল এটাই প্রকাশ করে না যে কারা ঝুঁকির মুখে ছিল; বরং সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করে দমন-পীড়নের বিষয়টিও বোঝায়।

কমিশন বলছে, গুম হওয়া মোট ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় ছিল ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশের (৯৪৮ জন)। এর বাইরে ক্ষমতাসীন দল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংখ্যা ছিল সামান্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৪৭৬ জন (৫০.২%), ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৩৬ (২৪.৯%), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ১৪২ (১৫%), জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৬ (৪.৯%) এবং জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৭ জন (১.৮%)।

কমিশন বলছে, এই ধরন নির্দেশ করে যে গুম ও সংশ্লিষ্ট নির্যাতনগুলো রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ছিল না। এই ঘটনাগুলো বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আনুপাতিক হারে বেশি ঘটেছে। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও বিএনপির মধ্যে ভুক্তভোগীদের এই আধিক্য ইঙ্গিত দেয় যে এটি কোনো যথেচ্ছ পদক্ষেপ ছিল না; বরং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শকে সুসংগঠিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশ ছিল ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্য। এসব ঘটনা নির্দেশ করে যে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় তরুণেরা বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে ছিল। এই পরিসংখ্যান রাজনৈতিক সংঘাতের সময়কাল, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং বিরোধী দলকে দমনের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়।

কমিশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিশ্চিত রাজনৈতিক পরিচয় থাকা নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতা–কর্মী আছেন প্রায় ৬৮ শতাংশ। এ ছাড়া এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রায় ২২ শতাংশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের।

>> গুম হয়েছেন ২৩ জন নারী

কমিশনের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে লিঙ্গভেদে দেখা যায়, ১ হাজার ৫৪৬ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে ছিলেন পুরুষ (প্রায় ৯৮.৫ শতাংশ), আর নারী ছিলেন ২৩ জন (প্রায় ১.৫ শতাংশ)। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে গুমের লক্ষ্যবস্তু মূলত পুরুষেরাই ছিলেন, যা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তাঝুঁকি বা সামাজিকভাবে নির্ধারিত পুরুষের ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত। তবে নারীদের গুম হওয়ার যে সংখ্যা এসেছে, তা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

কমিশন বলছে, পরিবারগুলো প্রায়ই নারী গুমের ঘটনার ক্ষেত্রে তীব্র সামাজিক কলঙ্ক, ভয় ও চাপের কথা বর্ণনা করেছে। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা অভিযোগ জমা দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাই নারী ভুক্তভোগীদের এই কম সংখ্যাটিকে নীরবতা ও অনিচ্ছার প্রেক্ষাপট দিয়ে বিচার করতে হবে। তা সত্ত্বেও নারী ভুক্তভোগীদের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ এবং তাঁদের বিশেষ ঝুঁকি ও দুর্বলতার কারণে তা নিবিড় মনোযোগের দাবি রাখে।

>> কোন বছরে কত গুম

কোন বছরে কত গুম হয়েছে, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কমিশনের বিশ্লেষণ একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। সেখানে দেখা যায়, গুমের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বা তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ফল নয়; বরং রাজনৈতিক চাপ, নির্বাচন, নিরাপত্তার সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

কমিশনের তথ্য বলছে, ২০০৯ সালে গুমের ঘটনা ঘটেছে ১০টি, ২০১০ সালে ৩৪, ২০১১ সালে ৪৭, ২০১২ সালে ৬১, ২০১৩ সালে ১২৮, ২০১৪ সালে ৯৫, ২০১৫ সালে ১৪১, ২০১৬ সালে ২১৫, ২০১৭ সালে ১৯৪, ২০১৮ সালে ১৯২, ২০১৯ সালে ১১৮, ২০২০ সালে ৫১, ২০২১ সালে ৯৫, ২০২২ সালে ১১০, ২০২৩ সালে ৬৫ ও ২০২৪ সালে ৪৭টি।

কমিশনের তথ্য বলছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর ২০০৯ সাল থেকে গুমের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। ২০১২ সালের পর এই বৃদ্ধি তীব্র হয় এবং দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত উচ্চমাত্রায় থাকে। ২০১৮ সালের পর সংখ্যায় কিছুটা হ্রাস দেখা যায়।

কমিশন সতর্ক করে বলেছে, এই বছরভিত্তিক চিত্রকে চূড়ান্ত ঐতিহাসিক নথি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিশেষ করে ২০১২ সালের আগের সময়ের তথ্য প্রকৃত ঘটনার সর্বনিম্ন প্রতিফলন হতে পারে। কারণ, অনেক ভুক্তভোগী, যাঁরা পরে ফিরে এসেছেন, ভয় ও মানসিক আঘাতের কারণে কমিশনের কাছে অভিযোগই করেননি।

কমিশনের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৩ সালে গুমের ঘটনায় বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়, যা ২০১৪ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে ২০১৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও। এমনকি জাতীয় নির্বাচন না থাকলেও ২০২২ সালে রাস্তায় আন্দোলন ও সংঘাতের সময় গুমের সংখ্যা আবার বাড়তে দেখা যায়।

আমার বার্তা/জেএইচ

নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৭৫ শতাংশ সদস্যের প্রশিক্ষণ শেষ

নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ, আনসার ও কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৭৫ শতাংশ সদস্যের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে শেষ

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারি: স্বাগত জানালো আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ,

পাকিস্তান থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহী বাংলাদেশ

ইসলামাবাদে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধানদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সংগ্রহের

৪৪তম বিসিএস কোটার সপক্ষে সনদপত্র জমাদান সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি

৪৪তম বিসিএস পরীক্ষা–২০২১ -এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায়
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৭৫ শতাংশ সদস্যের প্রশিক্ষণ শেষ

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়াই শিক্ষকতার আসল সার্থকতা

কিছু দল বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে, প্রধানরা পাচ্ছেন ভিভিআইপি প্রটোকল

নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফেরা শিক্ষার্থীর মরদেহ মিলল কলাবাগানের বাসায়

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারি: স্বাগত জানালো আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম

দরপত্র ছাড়াই ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনা হচ্ছে ৬১০ কোটি টাকার টিকা

জকসু নির্বাচন : কেন্দ্রীয় সংসদে ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৬৫ শতাংশ

পাকিস্তান থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহী বাংলাদেশ

জুলাই আন্দোলনকে অবজ্ঞা করে বক্তব্য দেওয়া ধৃষ্টতা: চিফ প্রসিকিউটর

ঢাকা-১৭ আসনের নেতাদের কথা শুনলেন তারেক রহমান

একাধিক দলে পাকিস্তানি ক্রিকেটার, ভিসা দিচ্ছে না ভারত

৪৪তম বিসিএস কোটার সপক্ষে সনদপত্র জমাদান সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি

খালেদা জিয়ার সিঙ্গাপুর সফ‌র স্মরণ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালাকৃষ্ণান

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় হাদিকে হত্যা, গুলি করেন ফয়সালই: ডিবিপ্রধান

রাশিয়ার তেল কিনলে ভারতকে উচ্চ শুল্কের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট ছাড়া জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক পাঠায় না

সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতির সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের মতবিনিময়

জাতীয় পার্টির পুনর্বাসন চাই না: ইসিকে আসিফ মাহমুদ

ভারত থেকে ডিজেল আমদানি করবে সরকার

কাউন্সিলর বাপ্পির নির্দেশে হত্যা করা হয় ওসমান হাদিকে: ডিবি