ই-পেপার বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

কতটা সফল আর ব্যর্থ অন্তর্বর্তী সরকার: বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

আমার বার্তা অনলাইন
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫১

বাংলাদেশে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের গত প্রায় ১৮ মাসের সাফল্য-ব্যর্থতার প্রশ্নে নানা আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পর এই সরকারের বিদায় নেওয়ার কথা। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই তাদের সাফল্য-ব্যর্থতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

সরকারের দিক থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল্য লক্ষ্য ছিল তিনটি- সংবিধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত 'মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার' এবং সরকার ঘোষিত রূপরেখার মধ্যেই সংসদ নির্বাচন আয়োজন। এসব ক্ষেত্রে 'সফল' কিংবা যথেষ্ট অগ্রগতির দাবি করা হচ্ছে সরকারের দিক থেকে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার মোটা দাগে তিন এজেন্ডাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে কিছুটা সাফল্য দেখালেও সরকারের ভেতরেরই একটি অংশের কারণে সংস্কার কিছুটা পথভ্রষ্ট হয়েছে, আর বিচারের ক্ষেত্রে 'বিচার নাকি প্রতিশোধ' সেই প্রশ্ন ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তারা মনে করেন, শুরু থেকেই মব সংস্কৃতি এমনভাবে চলেছে এবং তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে একটি শক্তির কাছে সরকার আত্মসমর্পণ করেছে। এছাড়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার পাশাপাশি নারীর সমতার ক্ষেত্রটিও এ সরকারের আমলে বড় ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে সরকার তুলনামূলক ভালো করলেও সামাজিক ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছে। আর রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নির্বাচনের দিকে এগুতে পারাটাও সরকারের একটা সাফল্য বলে মনে করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড: ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংস্কারের বিষয়ে সরকার কিছুটা পথভ্রষ্ট হয়েছে, আর বিচারের ক্ষেত্রে 'বিচার নাকি প্রতিশোধ' সেই প্রশ্ন ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা সরকার চাইলে এড়াতে পারতো বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মব সন্ত্রাস, যাদের হামলায় গত দেড় বছরে আক্রান্ত হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই সংবাদপত্র প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবন থেকে শুরু করে বহু মাজার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মারক।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০০৪ সালের ৮ অগাস্ট ক্ষমতায় এসেছিল ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এই সরকার। এরপর তিনি 'সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনকেই' তার সরকারের মূল এজেন্ডা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দায়িত্ব নেওয়া ও তিন এজেন্ডা

রাজনৈতিক দলগুলোর দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার চাপের মুখে প্রথমে প্রধান উপদেষ্টা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। পরে এক পর্যায়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাথে আলোচনার পর সরকার ও বিএনপি যৌথভাবে ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগেই নির্বাচনের ঘোষণা দেয়।

শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেদিন একই সঙ্গে সংস্কার প্রশ্নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে সরকার শুরুতেই রাষ্ট্রসংস্কারসহ বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক মোট ১১টি কমিশন গঠন করে এবং সেসব কমিশনের সুপারিশসহ রাষ্ট্রসংস্কারের জন্য দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়।

শেষ পর্যন্ত অন্তত ৩০টি বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর মধ্যে চারটি প্রশ্নে গণভোট হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই। সরকার নিজেও সেই গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করেছে।

যদিও ঐকমত্য কমিশনের সদস্য হিসেবে কাজ করা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড: ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, সংস্কার কমিশন ও জুলাই চার্টারের কৃতিত্ব সরকার নিতে পারে।

কিন্তু এটি পিক অ্যান্ড চুজ এবং এডহকিজমের শিকার হয়েছে। যে কারণে একদিকে শিক্ষাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংস্কার কমিশনই হয়নি, আবার যেসব বিষয়ে হয়েছে সেগুলোর অনেক কিছু সরকারের ভেতরেরই একটি অংশের কারণে পথভ্রষ্ট হয়েছে। আসলে সংস্কারের যে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, সেটি সরকারের বিবেচনাতেই ছিল না, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

যদিও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর এক আলোচনায় বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যতটা সংস্কার হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে তেমনটি এর আগে আর হয়নি।

তবে গণভোটে 'না' ভোট জয়ী হলে শেষ পর্যন্ত সরকারের সব সংস্কার উদ্যোগ ভেস্তে যায় কি-না তা নিয়েও অনেকের মধ্যে কৌতূহল আছে।

প্রথম আলোপ্রথম আলো তাদের ওপর হামলাকে গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ভিন্নমতের প্রকাশের অধিকারের ওপর সরাসরি আক্রমণ বলে বর্ণনা করেছে

বিচারের ক্ষেত্রে অগ্রগতি

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সংস্কারের পরেই গুরুত্ব পেয়েছে 'মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার'। ইতোমধ্যেই একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এ মামলার অপর আসামি পুলিশের আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে (রাজসাক্ষী) পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করে।

এছাড়াও গত অক্টোবরে আইন মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে হত্যার অভিযোগে মোট ৮৩৭টি মামলা রেকর্ড হয়েছে।

এর মধ্যে ৪৫টি মামলার বিচারকাজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে। এ ছাড়া তখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন ফৌজদারি আদালতে পুলিশ ১৯টি হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। এসব হত্যা মামলা বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।

তবে সরকারের শুরু থেকেই ঢালাও হত্যা মামলা এবং এসব মামলায় শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে জড়িত করা নিয়ে সমালোচনা হয়ে আসছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, সাংবাদিকসহ অনেকের বিরুদ্ধে অনেক হত্যা মামলা হয়েছে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং প্রশ্নবিদ্ধভাবেও অনেককে আটক রাখা হয়েছে, যার স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই।

আবার যেসব মামলায় বিচার হচ্ছে, তাও কতটা প্রভাবহীন ও স্বচ্ছ- সেই প্রশ্নও আছে। তাই সত্যিকার অর্থেই বিচার নাকি প্রতিশোধ—সেই প্রশ্ন উঠবে। এটি সরকার চাইলে এড়াতে পারতো। ঢালাও মামলার কারণে সত্যিকার অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

বেহাল আইন শৃঙ্খলা ও মব

বাংলাদেশে গত দেড় বছরের বেশি সময়ে মানবাধিকার সংগঠক ও সংস্থাগুলোর কাছে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অজ্ঞাতনামা লাশের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, কারা ও নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু, আর মব সন্ত্রাস। এই সময়কালে বারবার সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা আলোচনায় এসেছে।

এমনকি এবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে বসত বাড়িতে আগুন, ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে ভালুকায় পিটিয়ে আগুন দিয়ে দিপু চন্দ্র হত্যা এবং পর পর কয়েকজন হিন্দু ব্যবসায়ী খুন হওয়ার ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।

তবে সরকারের দিক থেকে সবসময়ই বলা হচ্ছে, সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘরে হামলার বেশিরভাগ ঘটনা রাজনৈতিক কারণেই ঘটেছে, ধর্মীয় কারণে নয়।

মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর– অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ১৪ মাসে দেশে অন্তত ৪০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এসেছে।

অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলছেন, অধ্যাপক ইউনূসের সরকার গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় এসেছিল এবং সে কারণে সরকারের সামনে তখন বড় চ্যালেঞ্জই ছিল অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে।

সবদিক বিবেচনা করলে এ তিনটির মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে সরকার অন্যগুলোর চেয়ে তুলনামূলক ভালো করেছেন। আর রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সফলতা হলো তার নির্বাচনের দিকে এগিয়েছে। কিন্তু সামাজিক ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছে। একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী যেভাবে আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটাই দুশ্চিন্তার বিষয়, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

সামাজিক ক্ষেত্রে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ প্রকট হয়ে এসেছে ঢাকায় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনার পর। গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে ওই হামলা চললেও সরকারের দিক থেকে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, এই মব কালচারের পেছনে থাকা অতি ক্ষমতায়িত শক্তিকে ম্যানেজ করতে সরকার ব্যর্থ হওয়ায় মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সরকারের ব্যর্থতায় এই শক্তি উৎসাহিত হয়েছে।

এর আগে সরকারের শুরু থেকেই সারাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সূফী-দরবেশ-বাউলদের মাজার আক্রান্ত হতে শুরু করে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের আক্রান্ত হবার ঘটনাও গত আঠারো মাসে বারবার আলোচনায় এসেছে।

এক বছর আগে ২০২৫ সালের শুরুতেই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৪ অগাস্টের পর থেকে পরবর্তী ৫ মাসেই সারাদেশের ৪০টি মাজারে (মাজার/সুফি কবরস্থান, দরগা) ৪৪বার হামলা চালানোর অভিযোগ পেয়েছিল পুলিশ।

এরপরেও সেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। উল্টো নভেম্বরে মানিকগঞ্জে বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে।

পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময় জুড়েই বিভিন্ন সময়ে নারীদের আক্রান্ত হবার ঘটনা ঘটেছে। একই সাথে নারী সংস্কার কমিশনের রিপোর্টকে ঘিরে নারীদের আক্রমণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় নারীদের হেনস্থার ঘটনা ঘটেছে।

গত বছর মার্চে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই বলেছিলেন, সম্প্রতি নারীদের ওপর যে জঘন্য হামলার খবর আসছে, তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। এটি 'নতুন বাংলাদেশ' এর যে স্বপ্ন আমরা দেখছি তার সম্পূর্ণ বিপরীত।

কিন্তু তার পর থেকে সেই পরিস্থিতির আদৌ উত্তরণ হয়েছে কি-না, সেই প্রশ্ন আছে।

নারীর সমতার ক্ষেত্রে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কাই এসেছে এ সরকারের সময়ে। কারণ সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকারের ব্যর্থতায় মুক্তিযুদ্ধ, বাক স্বাধীনতা, নারীর সমতাসহ ৭১ ও ২৪ এর মৌলিক চেতনার বিষয়গুলোই ঝুঁকিতে পড়েছে। কারণ সরকার এসবের ওপর আঘাত প্রতিহত করার সৎ সাহস সরকার দেখাতে পারেনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে যারা আঘাত করেছে সেই শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ইফতেখারুজ্জামান।

সরকার কিভাবে দেখছে

প্রধান উপদেষ্টার দফতরের সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে যে ধারণা পাওয়া গেছে তাহলো- সংস্কার ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করাকে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে সরকার।

বিশেষ করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রে রূপান্তরের জন্য জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদ স্বাক্ষর এবং ২৫টির মতো ডান, বাম মধ্যপন্থী দলগুলোর মধ্যে অন্তত ৩০টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোকেই বড় অর্জন হিসেবে সরকারের লোকজন মনে করছে।

তাছাড়া সরকার মনে করে, সবকিছুতে সংস্কার বাস্তবায়ন না করা গেলেও কোন কোনো জায়গায় সংস্কার দরকার এবং সেখানে করনীয় কি সেটি সরকার চিহ্নিত করতে পেরেছে সংস্কার কমিশনগুলোর মাধ্যমে।

ইতোমধ্যেই সাংবিধানিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ হিসেবে আরপিওতে সংশোধনী আনা হয়েছে।

আর বিচারের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার একটি মামলার রায় ছাড়া গুম খুনের বিচার শুরু করাকে অর্জন হিসেবে দেখছে সরকার। কারণ সরকার বলছে, মামলাগুলোর তদন্তের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন ছাড়াও দ্রুত বিচারের জন্য যা যা করণীয় সেসব পদক্ষেপও যথাসময়ে সরকার নিতে পেরেছে।

এছাড়া গুম খুনের মামলায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনাকেও সরকারের জন্য একটি ইতিবাচক অর্জন বলে সরকারের দিক থেকে মনে করা হচ্ছে।

ক্ষমতায় আসার পরপরই আর্থিক খাতে সংস্কার এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। আওয়ামী লীগ আমলে হওয়া 'আর্থিক খাতের দুর্নীতি' নিয়ে একটি শ্বেতপত্রও প্রকাশ হয়েছে সরকারের উদ্যোগে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন সম্প্রতি বলেছেন, উত্তরাধিকার সূত্রে একটি চ্যালেঞ্জিং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পাওয়ার পরও বাংলাদেশের অর্থনীতি সহনশীলতা দেখিয়েছে এবং ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে।

রিজার্ভ, মূল্যস্ফীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা

সরকারের দাবি অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১৪ বিলিয়ন ডলার যা আইএমএফ এর ঘোষিত পদ্ধতি অনুযায়ী এখন ২৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এছাড়া ব্যাংক খাতেও স্বস্তি ফিরে আসার দাবি করছে সরকার এবং এ খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে দুর্বল ৫টি ব্যাংককে একীভূত করা হয়েছে।

তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সফল হতে পারেনি। চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ডিসেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতির যে চিত্র প্রকাশ করেছে, সে অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এর আগে নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।

গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

তবে এমন পরিস্থিতিতে সরকারের সাথে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে পারাটা তাদের জন্য একটি সাফল্য, বিশেষ করে গত বছর রোজায় দ্রব্যমূল্য খুব একটা বাড়েনি বলেই মনে করছেন তারা

যদিও চালের দাম না কমার কারণে খাদ্যমূল্যস্ফীতি কমেনি বলে অর্থনীতিবিদরা বলছেন।

তবে সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ব্যর্থতা, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা মোকাবেলায় ব্যর্থতার অভিযোগ সত্ত্বেও সরকার মনে করছে এর বেশিরভাগ ঘটনাই রাজনৈতিক।

সরকার বলেছে, এ সরকারের আমলে দুটি দুর্গাপূজায় অঘটন ঘটেনি।

সরকারের দিক থেকে সাফল্য হিসেবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথাও বলা হচ্ছে। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি হওয়ায় এখন বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি সুপ্রিম কোর্টই করবে।

অন্যদিকে আইন শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হলো 'অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা ভয়াবহ চ্যালেঞ্জিং ছিলো। সে কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারতো কিন্তু সরকার পদক্ষেপ নেওয়ায় তা হয়নি'।

সরকার বলছে, জোরপূর্বক গুম, খুন বন্ধ হয়েছে এবং পুলিশ বাহিনীকে সক্ষম করে তোলা হয়েছে, যা ধীরে ধীরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সরকার মনে করে।

তবে কারাগারে কিংবা হেফাজতে মৃত্যুর কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকার বলছে, আগের মতো সরকার এগুলো প্রত্যাখ্যান করেনি, বরং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের শুরুর দিকে ১৬৭ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। পরে সরকার নিজেই সেটি ভুল পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এখন সরকারের দিক থেকে বলা হচ্ছে যে, এই ঘটনা ছাড়া সরকারের পদক্ষেপের কারণে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা বিঘ্নিত হয়নি বরং প্রেস ফ্রিডমের উন্নতি হয়েছে।

যদিও বেশ কিছু সাংবাদিককে আটক, টকশোতে সরকারের সমালোচনার পর সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেফতার এবং সর্বোপরি প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনাগুলোকে মত প্রকাশ কিংবা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপরই হামলা হিসেবে বলছেন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা।

আমার বার্তা /জেএইচ

ভয়ভীতি ছাড়া ভোটারদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার আহ্বান জাতিসংঘের

নির্বাচনে নারীদের নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ জাতীয়

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ পর্যন্ত পদে থাকছেন বর্তমান উপদেষ্টারা

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনের মাধ্যমে

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আনফ্রেল-এর নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সাক্ষাৎ

এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনসের (আনফ্রেল) একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের

ইইউয়ের পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদলকে প্রস্তুতির কথা জানাল ইসি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩ কোটি রুপিতে পিএসএলে দল পেলেন রিশাদ

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে যাওয়ার পথে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিহত

ভয়ভীতি ছাড়া ভোটারদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার আহ্বান জাতিসংঘের

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ পর্যন্ত পদে থাকছেন বর্তমান উপদেষ্টারা

একটি বাংলাদেশ আমি জাগ্রত জনতার

ভোটের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে উপচে পড়া ভীড়

ভোটের দিন থেকে ভবিষ্যতের পথে: গণতন্ত্র ও কৃষিনির্ভর টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার

ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরের ব্যবসার টাকা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নয়

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আনফ্রেল-এর নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সাক্ষাৎ

বিশ্বে ৯ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষের চোখে ছানি

চন্দনাইশে গভীর রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১০ লাখ টাকাসহ মাইক্রোবাস জব্দ, আটক ৩

ইইউয়ের পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদলকে প্রস্তুতির কথা জানাল ইসি

শুক্রবার সকালের মধ্যেই বেশির ভাগ আসনের ফল প্রকাশ: ইসি সানাউল্লাহ

মুসলিমকে বাঁচানোয় হিন্দু যুবকের জিম বয়কট করছে উগ্রবাদীরা

ঢাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা পুলিশের, থাকছে সোয়াত, কে-৯ ও ক্রাইম সিন টিম

ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির ৫০ লাখ টাকাসহ আটক

গাজায় ৮ হাজার সেনা মোতায়েন করছে ইন্দোনেশিয়া

গাবতলীতে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ ঘরেফেরা যাত্রীদের

ভোট সুষ্ঠু করতে ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম গঠন ইসির

ঢাকার নদ-নদী রক্ষায় ৩৭ কোটি ডলার অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের