
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মূলধনে যে টান পড়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বিশেষ সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংকটে থাকা উৎপাদনশীল খাতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলাদা কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যাতে আর্থিক কর্মকাণ্ড গতিশীল থাকে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে সরকারের এসব পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি আরও বলেন, দেশের ভঙ্গুর আর্থিক খাতকে টেনে তুলতে এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে চার স্তরের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর আওতায় মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয়ে ২০২৮-২৯ অর্থবছর পর্যন্ত একটি মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে। ১০ এপ্রিল অর্থ বিভাগে অনুষ্ঠিত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল সভায় এই কৌশলপত্র চূড়ান্ত করা হয়।
তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় নীতি সুদহার ১০ শতাংশে ধরে রাখা হয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি যেখানে ১৪.১০ শতাংশে উঠেছিল, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা কমে ৮.২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও সুবাতাস বইছে। ১৫ এপ্রিলের হিসাব অনুযায়ী দেশের মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইএমএফ-এর বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী যা ৩০ হাজার ২০১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার।
আমির খসরু বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ গঠন করছে সরকার। বাজার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া প্রবাসীদের বিনিয়োগ আরও সহজ করতে ‘ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে’ চালু ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মিল রেখে মুদ্রা সরবরাহ ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো কার্যকর হলে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ফেরার পাশাপাশি বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলেও জানান তিনি।
আমার বার্তা/এমই

