
বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে জ্বালানি, বিনিয়োগ, অর্থায়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ বা যৌথ কর্মদল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দোহা সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১ তম অধিবেশনের নির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান কাতারের জ্বালানি ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভেরিফায়েড পেইজ এবং কাতারি সংবাদমাধ্যম কাতার ট্রিবিউনের প্রতিবেদন থেকে এই বিষয়ে জানা গেছে। দুই দিনের সরকারি সফরে উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্ব বর্তমানে দোহায় অবস্থান করছেন।
গতকাল মঙ্গলবার তিনি কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এইচ ই সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে বিদ্যমান জ্বালানি সম্পর্ক ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের জ্বালানি খাতে সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।
এরপর কাতারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে দেশটির অর্থমন্ত্রী এইচ ই আলী বিন আহমেদ আল-কুওয়ারির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি বিনিয়োগ, অর্থায়ন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি বিষয়ও স্থান পায়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ ই রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এইচ ই আনিন্দা ইসলাম আমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ ই হুমায়ুন কবির এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো পরবর্তী পর্যায়ে এগিয়ে নিতে এবং দুই দেশের জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতা বাস্তবায়নে জ্বালানি ও আর্থিক খাতের জন্য যৌথ কর্মদল গঠনে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। এসব কর্মদল বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর অনুসরণ, সমন্বয় এবং সহযোগিতার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে কাজ করবে। বৈঠককালে ড. খলিলুর রহমান কাতারের জ্বালানি ও অর্থমন্ত্রীকে তাঁদের পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বাংলাদেশের জন্য কাতারের সঙ্গে এই আলোচনায় জ্বালানি সহযোগিতার পাশাপাশি বিনিয়োগ, অর্থায়ন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে দোহায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার উদ্যোগও স্পষ্ট হয়েছে।

