
সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম মানুষের কাছে কতটা কার্যকরভাবে পৌঁছাচ্ছে, সেই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে নতুন কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা জিপিএমএস (GPMS) বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক এস এম আব্দুর রহমান। তাঁর মতে, এই পদ্ধতি সরকারি প্রচার কার্যক্রমকে কেবল সংখ্যার ভিত্তিতে নয়, বরং বাস্তব প্রভাব ও জনসম্পৃক্ততার ভিত্তিতে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করবে।
শনিবার রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বড়ইছড়ি উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জিপিএমএস কর্মপরিকল্পনা অবহিতকরণ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে কাপ্তাই তথ্য অফিস।
মহাপরিচালক এস এম আব্দুর রহমান বলেন, সরকারি প্রচার কার্যক্রমের সফলতা শুধুমাত্র কতটি উঠান বৈঠক, কমিউনিটি সভা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী কিংবা গণসংলাপ আয়োজন করা হয়েছে—সেটি দিয়ে নির্ধারণ করা হবে না। বরং এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে কতজন মানুষের কাছে উন্নয়ন বার্তা পৌঁছেছে, জনগণ সেই তথ্য কতটা গ্রহণ করেছে এবং বাস্তবে তার কী ধরনের প্রভাব পড়েছে—এসব বিষয়ও জিপিএমএসের মূল্যায়নের আওতায় আসবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই মূল্যায়ন কাঠামো সরকারি দপ্তরগুলোকে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করবে এবং কার্যক্রমের গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
মহাপরিচালক বলেন, জিপিএমএস বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসনের চর্চা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি জনসেবার মানোন্নয়ন এবং নাগরিকমুখী কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন এ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জিপিএমএসের আওতায় তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। ফলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও সূচক অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন এবং অগ্রগতি মূল্যায়নের সুযোগ পায়। এতে কর্মসম্পাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপপরিচালক (মাঠ প্রচার) ফাহিমা জাহান। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ময়মনসিংহ তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম।
দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের তথ্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। প্রশিক্ষণে জিপিএমএস কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুযায়ী হাতে-কলমে বিভিন্ন বিষয় অনুশীলন করা হয়।
কর্মশালার সমাপনীতে বক্তারা মত দেন, সরকারি উন্নয়ন বার্তা মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে এবং প্রচার কার্যক্রমের বাস্তব ফলাফল মূল্যায়নে জিপিএমএস একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে গণযোগাযোগ কার্যক্রম আরও জনমুখী, ফলাফলনির্ভর এবং কার্যকর হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

