
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নে এক তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ-এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা।
নিহত নাহিদা আক্তার (২১) স্থানীয় খলিল মিয়ার মেয়ে এবং একই এলাকার শিশু মিয়ার ছেলে তানভীর আহমেদের স্ত্রী। ঘটনাটি ঘটে গত ২৯ মার্চ রোববার রাতে, স্বামীর বাড়িতে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নাহিদা যখন নবম শ্রেণিতে পড়তেন, তখনই তানভীরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রথমদিকে এই পরিচয় স্বাভাবিক ছিল না-তানভীর তাকে বিভিন্ন সময় বিরক্ত করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে প্রেমে রূপ নেয়।
এই সম্পর্ক জানাজানি হলে দুই পরিবারেই অস্বস্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে নাহিদার পরিবার প্রথমে বিষয়টি মেনে নিতে চায়নি। তবে শেষ পর্যন্ত পারিবারিক বাধা উপেক্ষা করেই তারা বিয়ে করেন।
বিয়ের পর প্রথম দিকে সংসার মোটামুটি ভালো চললেও এক বছরের মাথায় দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয়। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ নিয়মিত হয়ে ওঠে। নাহিদার পরিবারের দাবি, তানভীর প্রায়ই তাকে নির্যাতন করতেন এবং অকারণে পরকীয়ার অভিযোগ তুলতেন।
কিছুদিন পর জীবিকার তাগিদে তানভীর বিদেশে চলে যান। দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে আসার পর আবারও দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। কয়েকদিন আগে মারধরের ঘটনায় নাহিদা তার পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
ঘটনার দিন রোববার, তানভীর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক স্ত্রী ও সন্তানকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর নিজ ঘরেই নাহিদার মৃত্যু ঘটে। তবে ঘটনার পর স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে এটি আত্মহত্যা বলে দাবি করা হয়।
নাহিদার মা মিনুয়ারা বেগম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমার মেয়েকে জোর করে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।” ঘটনার পর থেকেই স্বামী তানভীর আহমেদ পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার পরদিন সোমবার (৩০ মার্চ) নিহতের মা নবীনগর থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। রাতেই মরদেহ থানায় আনা হয় এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তদন্ত চলছে।”
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এটি আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড-সেটি এখন নির্ভর করছে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপর। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যার ঘটনা—এবং তারা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।

