পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধ, নিজের পছন্দে বিয়ে, জোরপূর্বক বিয়ের চাপ, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোছা: লিজা আক্তার (২৩)। বর্তমানে তিনি লন্ডনে তার স্বামী সৈয়দ কামরুল হাসান (৩৪) ও ছোট সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন।
পরিবারের দাবি, মোছা: লিজা আক্তার তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান এবং তাদের পরিবারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ-সম্পত্তি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই কিছু আত্মীয় ওই সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে আসছেন। পরিবারের অভিযোগ, লিজা আক্তারকে আত্মীয়দের পরিবারের একজন ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার চাপের পেছনেও মূল উদ্দেশ্য ছিল পারিবারিক সম্পত্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। লিজা সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে নিজের পছন্দে সৈয়দ কামরুল হাসানকে বিয়ে করেন। পরিবারের দাবি, তিনি পরিবারের বাইরে বিয়ে করায় আত্মীয়দের একটি অংশ মনে করে পারিবারিক সম্পত্তি তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। এরপর থেকেই তার ওপর চাপ, হুমকি ও হয়রানি আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালে মোছা: লিজা আক্তার (২৩) হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে তিনি স্বামী সৈয়দ কামরুল হাসানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যান। দেশে ফিরে পরিস্থিতি মীমাংসার উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের ২৮ মে স্বামী ও ছোট সন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে প্রায় আড়াই মাস অবস্থান করেন। কিন্তু পরিবারের দাবি, মীমাংসার চেষ্টা সত্ত্বেও গাজীপুরে লিজা আবারও হামলার শিকার হন। এ সময় তাদের ছোট সন্তানও অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। পরিস্থিতি নিরাপদ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশে থাকা লিজা আক্তারের মাতা মোছা: রাহেলা বেগম (৪২) বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি নিজের বাড়িতেও থাকতে পারছেন না; বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী প্রবাসী অভিযোগ করে জানান, “আমরা প্রবাসে থেকেও দেশের আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশে গেলে আমাদের জীবন বিপন্ন হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই আমরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে দেশে ফিরতে পারছি না।”
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিজা আক্তারের মাতা মোছা: রাহেলা বেগম (৪২) গত ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে ঘাটাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।জিডি নং: ৮৮৮,জিডি ট্র্যাকিং নং:9HEE5U।
এই ঘটনায় দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে প্রবাসী পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।